kalerkantho


কেরানীগঞ্জে প্রস্তুত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধন ১০ এপ্রিল

ওমর ফারুক   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় ১৪২ একর জমির ওপর নতুন করে বানানো হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। আগামী ১০ এপ্রিল সেটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দীন রোডের বদলে এখন এটিই হবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নতুন ঠিকানা। উদ্বোধনের পর নাজিমউদ্দীন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বন্দিদের কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা হবে। কারা সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।  

কারা সূত্র জানায়, নাজিমউদ্দীন রোডের বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা দুই হাজার ৮২৬। কিন্তু সেখানে আছে সাত হাজারের বেশি বন্দি। নতুন কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা হবে পাঁচ হাজার। নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে ছয় তলা, চার তলা ও দোতলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, শীর্ষ সন্ত্রাসী, জঙ্গি, দুর্ধর্ষ অপরাধীদের জন্য চার তলাবিশিষ্ট চারটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ভবনে দেওয়া হবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা। ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য থাকবে ৬০টি বিশেষ কক্ষ। কারাগারের সার্বিক নিরাপত্তায় বানানো হয়েছে ২৫ ফুট উচু সীমানাপ্রাচীর। কারাগারের চার কোনায় নির্মাণ করা হয়েছে ৪০ ফুট উঁচু ওয়াচ টাওয়ার। কারাগারের দক্ষিণ দিকে সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে ফাঁসির মঞ্চ। নতুন কারাগার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪১৪ কোটি টাকা। গণপূর্ত অধিদপ্তর ভবন তৈরির কাজের তদারকি করে।

এ বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন গতকাল সোমবর সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী কেরানীগঞ্জের কারাগারটি উদ্বোধন করবেন। ’

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উদ্বোধনের পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা বন্দিদের সরিয়ে নেওয়া হবে কেরানীগঞ্জের নবনির্মিত কারাগারে। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উদ্বোধনের পর মাসখানেকের মধ্যে আসামি স্থানান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে। ’

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের মতোই কেরানীগঞ্জের কারাগারটিকেও চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। কারাগারের বাইরের অংশে কারা কর্মকর্তাদের আবাস, ২০০ শয্যার হাসপাতাল থাকছে। পাশাপাশি নারী, কিশোর অপরাধে অভিযুক্ত কিশোর বন্দি ও মানসিক ভারসাম্যহীন বন্দিদের জন্য বিশেষ সেল থাকছে। কারাগারের বাইরে কর্মরত কর্মকর্তাদের ৫০টি পরিবারের জন্য আলাদা ইউনিট ও কর্মচারীদের ৩৫০টি পরিবারের জন্য আলাদা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিনোদনে অফিসার্স ক্লাব, কর্মচারীদের জন্য স্টাফ ক্লাব, স্কুল, মসজিদ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ সভার জন্য অডিটরিয়ামও হচ্ছে। তা ছাড়া কারাগার কম্পাউন্ডে এক হাজার কারারক্ষীর থাকার জন্য ব্যারাকও থাকছে।

কারা সূত্র জানায়, পুরুষ বন্দিদের জন্য কেরানীগঞ্জের কারাগার প্রায় প্রস্তুত হলেও এখনো নারী বন্দিদের জন্য সব ব্যবস্থা করা হয়নি। তাই আপাতত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা নারী বন্দিদের নেওয়া হবে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে। এরপর কেরানীগঞ্জে নারীদের কারাগার প্রস্তুতের পর তাদের কাশিমপুর থেকে সেখানে স্থানান্তর করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১৯৮০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কাউন্সিল সভায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের জন্য দুটি কারাগার নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে একটি গাজীপুরের কাশিমপুর এবং অন্যটি রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জে। শুরুতেই কাশিমপুরের কারাগারটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, নাজিমউদ্দীন রোডে ১৭৬৫ সালে ১০টি ওয়ার্ড নির্মাণ করে সাধারণ বন্দিদের রাখা হতো। ১৭৮৮ সালে ওয়ার্ডগুলোতে বড় অপরাধীদের রাখা শুরু হয়। সেই থেকে শুরু হয় ঢাকা কারাগারের যাত্রা। ১৯০২ সালে ৩৯ একর জমি নিয়ে বৃহৎ পরিসরে যাত্রা শুরু করে বর্তমান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। ১৯৮০ সালে আশপাশে বড় ভবন হওয়ার কারণে কারাগারটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।


মন্তব্য