kalerkantho


মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে সরব চারুকলা

নওশাদ জামিল   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



 

‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা...’। অগ্নিস্নানে শুচি হওয়ার সময় আসন্ন প্রায়।

যেটুকু বাকি, দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যাবে। আসছে পহেলা বৈশাখ। এদিন অসাম্প্রদায়িক বাঙালি মাতবে সবচেয়ে বড় আর বর্ণাঢ্য উৎসবে। এ উৎসব উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এই প্রস্তুতি চলে দীর্ঘ পর্ব নিয়ে। আর এখান থেকেই পহেলা বৈশাখের সকালে বের হয় আকর্ষণীয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঐতিহ্যবাহী এ শোভাযাত্রা সামনে রেখে এবারও সরব চারুকলার ক্যাম্পাস। ১৩ এপ্রিল চৈত্রসংক্রান্তি উদ্্যাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই প্রস্তুতি।

গত রবিবার শোভাযাত্রার মূল কাজ শুরু হয়েছে।

গতকাল সোমবার শুরু হয়েছে শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ মুখোশ ও পেপার ম্যাশের কাজ।

মা ও সন্তানের মধুর সম্পর্ককে উপজীব্য করে সাজানো হচ্ছে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন ড. নিসার হোসেন গতকাল বলেন, ‘আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই দেখছি, মা ও সন্তানের সম্পর্কটা ফিকে হয়ে পড়ছে। সে বিষয়টি সামনে রেখেই এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি শুরু করেছি। শোভাযাত্রার অগ্রভাগেই থাকবে মা ও সন্তানের বিশাল প্রতিকৃতি। এ বিষয়ে আরো বেশ কিছু স্থাপত্য থাকবে। বরাবরের মতো হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, পাখির কাঠামো তো আছেই। ’

১৪২৩ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানানোর এই মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য এবার কাজ করছে চারুকলা অনুষদের মাস্টার্স দ্বিতীয় বর্ষের ১৭তম ব্যাচ। এর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন খালিদ হাসান রবিন। তাঁর নেতৃত্বে অনুষদের পুরনো ও চলতি প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী বিশাল এই কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত সময় পার করছে।

খালিদ হাসান রবিন বলেন, ‘আমাদের ব্যাচে মোট ১২০ জন শিক্ষার্থী। সবাই এ কাজে অংশ নিচ্ছেন না। তবে জুনিয়র-সিনিয়র-নির্বিশেষে সবাই কাজে সহায়তা করছেন। ইতিমধ্যে জলরঙের ছবি আঁকা ও বিক্রি শুরু হয়েছে। ’

চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয় ১৯৮৯ সালে। সে বছরই সবার দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয় এই আয়োজন।


মন্তব্য