kalerkantho

25th march banner

কাল থেকে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের আংশিক খুলছে

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দফায় দফায় সময় বাড়ানোর পর অবশেষে আগামীকাল বুধবার মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের একটি অংশ খুলে দেওয়া হচ্ছে। সব কিছু ঠিক থাকলে সাতরাস্তা থেকে মগবাজার হয়ে হলি ফ্যামিলি পর্যন্ত ফ্লাইওভারের অংশটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনের পর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এদিকে, তড়িঘড়ি করে চালু করাতে ফ্লাইওভারের নিচের সড়কের কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। ফলে বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ বেড়ে যাবে প্রকল্প এলাকায়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও এই ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী নাজমুল আলম বলেন, ‘হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত ফ্লাইওভারের অংশটি খুলে দেওয়ার জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। কাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী এ অংশটি উদ্বোধন করার পর সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। ’

আর পুরো প্রকল্পের ৭০ ভাগের মতো কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে নাজমুল আলম বলেন, ‘তিন ধাপে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি অংশ বুধবার খুলে দেওয়ার পর বাংলামোটর থেকে মৌচাক অংশ আগামী জুনে খুলে দেওয়া হবে। আর বাকি অংশটুকু ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে খুলে দেওয়ার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের জুন পর্যন্ত হলেও এর আগেই সব কাজ শেষ হয়ে যাবে। ’

রাজধানীর সাতরাস্তা, এফডিসি, মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগ, শান্তিনগর সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যানজট লেগেই থাকত। আর এ সংকট নিরসনেই ফ্লাইওভার প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফ্লাইওভারের মূল কাজ শেষ হয়েছে কয়েক দিন আগেই। ল্যাম্প পোস্টের জন্য বৈদ্যুতিক তার টানানো হয়েছে। গার্ডারের কাজও শেষ হয়েছে। ফিনিশিং শেষে নির্মাণ শ্রমিকরা সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করছে। গতকাল সোমবারও দেখা যায় ফ্লাইওভারের নিচের অংশে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করছে। তারা চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজগুলো শেষ করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। হলি ফ্যামিলির সামনে যেখানে ফ্লাইওভারের একটি প্রান্তের শুরু সেখানে মাটি ভরাট করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে বুধবার উদ্বোধন হলে এত অল্প সময়ে ফ্লাইওভারের নিচের অংশ পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হবে না। স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী জানান, উদ্বোধন হলে নগরবাসীর জন্য এটি আনন্দের বিষয়। দ্রুত যাতায়াত করা যাবে। কিন্তু অনেক কাজ এখনো বাকি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করে চলে গেলে এসব কাজের ব্যাপারে আর নজর থাকবে কি না তাঁরা এ নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন।

মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্পটি ২০১১ সালের ৮ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন হয়। প্রথমে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ ফ্লাইওভার প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও পরে দুই দফা সময় বাড়ানো হয়।

বাড়ানো সময়ের প্রথম দফায় কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৪ সালের মধ্যে। পরে দ্বিতীয় দফায় ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করে চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাও হয়নি। এর মধ্যে ফ্লাইওভারটির নির্মাণ ব্যয়ও বেড়েছে।


মন্তব্য