kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ । ১১ মাঘ ১৪২৩। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮।


১৫ টাকা কেজির চাল কেনে না কেউ

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হতদরিদ্র মানুষের জন্য রাজশাহীর খোলাবাজারে চাল, আটা বিক্রি শুরু হয়েছে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। খাদ্য অধিদপ্তর মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে খোলাবাজারে চাল বিক্রি করলেও সেই চালের মান এতই খারাপ যে কেউ সে চাল কিনছে না।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, চাল সংগ্রহের সময় স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ আর ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। ফলে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করা হয়। এতে এখন বাজারে সেই চাল বিক্রি করতে গিয়ে আর ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

গতকাল রবিবার দুপুরে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ট্রাকে করে খোলাবাজারে চাল বিক্রি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তা কেনার কোনো লোক নেই। বাজারে যেখানে চালের দাম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, সেখানে খোলাবাজারে ১৫ টাকা কেজি দরের চাল কেনার জন্য ভিড় হওয়ার কথা। কিন্তু কোনো ক্রেতা নেই বলে জানালেন ডিলাররা।

তাঁদের দাবি, খাদ্য অধিদপ্তরের যে চাল খোলাবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে, সেটা খুবই নিম্নমানের এবং হাইব্রিড জাতের। আর এই চাল অন্য সব চালের চেয়ে মোটা। গরমে বাসায় রাখলেও এ চাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার রান্নার পর খেতে তৃপ্তি নেই বলে ক্রেতারা চাল কিনতে আসছে না।

বর্ণালী উঁচুভিটা এলাকার বাসিন্দা শাহানাজ বেগম চাল কিনতে এসে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ট্রাক থেকেই চাল কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেদিন দুপুরের রান্না ভাত আর রাতে খেতে পারিনি। আজ নিতে এসেও দেখি একই চাল। কিন্তু দাম কম হলেও এ চাল আর নিব না। ’

আরেক ক্রেতা আবু হায়দার বলেন, এসব চাল দেওয়া গরিবের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু না। কম দাম বলে অনেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পরে রান্না করে আর ভাত খাওয়া যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরের একাধিক ডিলার জানান, প্রায় এক মাস হলো তাঁরা খোলাবাজারে চাল বিক্রি করছেন। কিন্তু চালের মান দেখে ক্রেতারা কিনতে চাচ্ছে না। ফলে ১০ বস্তা চাল নিয়ে এলেও দিন শেষে আবার ট্রাকে করে অন্তত আট বস্তা ফেরত আনতে হচ্ছে। তবে কেউ কেউ গরুকে খাওয়ানোর জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জনা গেছে, বিভাগের বিভিন্ন গুদামে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন মোটা চাল মজুদ রয়েছে। এই চাল বিক্রি করার পর আসছে বোরো মৌসুমে নতুন করে আবারও চাল সংগ্রহ করা হবে। কিন্তু পুরনো অতি নিম্নমানের চালগুলো কেনার জন্য এখন ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলারদের কাছে ১৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। ডিলারদের খোলাবাজারে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে বলা হয়েছে। তবে বাজারে সাধারণত যেসব চাল বিক্রি হচ্ছে, সেসব চালের চেয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা এই চাল খুবই নিম্নমানের।

রাজশাহী জেলা খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলায়ও খোলাবাজারে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত শুধু স্বল্প পরিমাণে নগর এলাকা ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে এ চাল বিক্রি শুরু করা হয়নি। এতে জেলার গুদামগুলোতে প্রায় ১২ হাজার টন চাল মজুদ রয়েছে। এখন পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে মাত্র দেড় হাজার টন।

এদিকে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, চাল সংগ্রহের সময় প্রকৃত চাল কল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ না করে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ আর অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। অতিরিক্ত দাম দিয়ে চাল কেনা হলেও সেগুলো ছিল খুবই নিম্নমানের।

চাল নিয়ে ক্রেতাদের এমন অনাগ্রহের কথা স্বীকার করে রাজশাহী জেলা খাদ্য কর্মকর্তা সুজা আলম কালের কণ্ঠকে জানান, প্রায় এক বছরের পুরনো এই চালগুলো অতিরিক্ত মোটা হওয়ায় বাজারে কম মূল্যে বিক্রি করেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ এক বছর আগে এই চালগুলো প্রায় দ্বিগুণ দামে সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু গুদামে অতিরিক্ত চাল থাকার কারণে মোটা এই চাল এখন অর্ধেক মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু তার পরও ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, আগের চেয়ে মানুষের খাদ্যভ্যাস পরিবর্তন হয়েছে। ফলে বাজারে এখন আর মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে না।


মন্তব্য