kalerkantho


সুবর্ণ এক্সপ্রেসের গতি বাড়াতে ভয়

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে আন্তনগর সুবর্ণ এক্সপ্রেসসহ আরো কয়েকটি ট্রেনের গতি বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়ে ভ্রমণ সময় কমিয়ে নতুন সময়সূচি ঠিক করা হয়েছে। বাস্তবে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের গতি বাড়েনি। রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্ঘটনার শঙ্কা থেকেই গতি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ৩২০ কিলোমিটার দূরত্বের রেলপথে একমাত্র বিরতিহীন ট্রেন এই সুবর্ণ এক্সপ্রেস। লাভজনক এই আন্তনগরের এক জোড়া ট্রেন (৭০১ ও ৭০২) ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে চলছে দীর্ঘদিন ধরে।

বর্তমান সরকারের আমলে গত সাত বছরে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপন ও আধুনিকায়নের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। ডাবল লাইন স্থাপনের বেশির ভাগ কাজই শেষ হয়েছে। এখন ট্রেনও চলাচল করছে।

রেলওয়ের পরিবহন ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ট্রেন চলাচলের সিগন্যালিং ব্যবস্থা এখনো ইন্টারলকিং পদ্ধতিতে। শুধু ডাবল লাইনে লাকসাম থেকে চিনকি আস্তানা পর্যন্ত রেলপথটি কম্পিউটার-বেজড ইন্টারলকিং পদ্ধতিতে চলছে। চট্টগ্রাম বিভাগের এ অংশে কম্পিউটার-বেজড ইন্টারলকিং থাকলেও অন্য অংশে তা নেই। অন্যদিকে ঢাকা বিভাগের পুরোটাই এ পদ্ধতিতে ট্রেন চলাচল করছে। পদ্ধতিটি ট্রেন চলাচলে নিরাপদ। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রতিটি রেলস্টেশন সচল এবং সিগন্যালিং পদ্ধতিতে যদি কম্পিউটার-বেজড ইন্টারলকিং থাকত, তাহলে নতুন সময়সূচি মেনে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন আরো কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারত।

জানতে চাইলে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মকবুল আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করি নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে সেটা এখনো সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি। ’

গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রেন দুটির ভ্রমণ সময় কমিয়ে যথাক্রমে ৩০ মিনিট ও ৫০ মিনিট করা হয়েছে। এ কারণে গতি বাড়ানো হয়েছে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭২ কিলোমিটার, যা আগে ছিল ঘণ্টায় ৬০-৬৫ কিলোমিটার।

নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, দুটি ট্রেনের মধ্যে ৭০১ নম্বর প্রতিদিন সকাল ৭টায় চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছানোর কথা। আগে এ ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে একই সময়ে ছাড়লেও ঢাকায় পৌঁছার সময় নির্ধারিত ছিল দুপুর ১টা ১০ মিনিট।

অন্যদিকে ৭০২ নম্বর সুবর্ণ এক্সপ্রেস প্রতিদিন ঢাকা থেকে বিকেল ৩টায় ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছানোর কথা রাত ৮টা ৩০ মিনিটে। আগের সূচিতে ঢাকা থেকে ছাড়ার সময় একই হলেও গন্তব্যে (চট্টগ্রাম) পৌঁছার সময় ছিল রাত ৯টা ২০ মিনিট।

কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে জানা গেছে, নতুন সূচিতে এক মাস ধরে চলাচলের পর খোঁজ নিয়ে জানা গেল দিন দুয়েক যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে ট্রেন দুটি। জানা গেছে, একেকটি যাত্রায় পাঁচ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বিলম্ব হয়েছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি নতুন সময়সূচির প্রথম দিন ৭০১ নম্বর সুবর্ণ এক্সপ্রেস ৪০ মিনিট দেরিতে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছে। একই দিন ৭০২ নম্বর ট্রেনটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসে ৩০ মিনিট দেরিতে। এভাবে ২৩ ফেব্রুয়ারি ৭০১ নম্বর পাঁচ মিনিট, ৭০২ নম্বর ২০ মিনিট, ২৪ ফেব্রুয়ারি ৭০১ নম্বর এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিট, ৭০২ নম্বর ৩০ মিনিট, ২৫ ফেব্রুয়ারি ৭০১ নম্বর এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিট, ৭০২ নম্বর ২০ মিনিট, ২৭ ফেব্রুয়ারি ৭০১ নম্বর ১৫ মিনিট, ৭০২ নম্বর ২০ মিনিট, ২৮ ফেব্রুয়ারি ৭০১ নম্বর ১০ মিনিট, ৭০২ নম্বর ১৫ মিনিট, ২৯ ফেব্রুয়ারি ৭০১ নম্বর পাঁচ মিনিট, ৭০২ নম্বর ২০ মিনিট দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছে।

এ ছাড়া ৭০১ নম্বর ট্রেনটি ১ মার্চ ২০ মিনিট, ৩ মার্চ ১৫ মিনিট, ৫ মার্চ ১০ মিনিট, ৬ মার্চ ৩৫ মিনিট, ৭ মার্চ ২০ মিনিট, ৮ মার্চ ২০ মিনিট, ৯ মার্চ ২০ মিনিট, ১০ মার্চ ২০ মিনিট, ১২ মার্চ ১০ মিনিট, ১৩ মার্চ পাঁচ মিনিট, ১৪ মার্চ ১৫ মিনিট, ১৬ মার্চ ১০ মিনিট, ১৭ মার্চ পাঁচ মিনিট, ১৯ মার্চ পাঁচ মিনিট, ২০ মার্চ ১০ মিনিট এবং ৭০২ নম্বর ১ মার্চ ১০ মিনিট, ২ মার্চ ১৫ মিনিট, ৩ মার্চ ২০ মিনিট, ৫ মার্চ পাঁচ মিনিট, ৬ মার্চ ১৫ মিনিট, ৭ মার্চ ১৫ মিনিট, ৮ মার্চ এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট, ৯ মার্চ ২০ মিনিট, ১০ মার্চ ২০ মিনিট, ১২ মার্চ ২০ মিনিট, ১৩ মার্চ ১০ মিনিট, ১৪ মার্চ ২০ মিনিট, ১৫ মার্চ ১০ মিনিট, ১৬ মার্চ ২০ মিনিট, ১৭ মার্চ এক ঘণ্টা ২০ মিনিট এবং ১৯ মার্চ ২০ মিনিট দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছেছে।

পূর্বাঞ্চল রেলের পরিবহন বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ৫৪টি স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি রেলস্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী সুবর্ণ ট্রেন চলতে গেলে ট্রেনটির গতিসীমা বাড়িয়ে কোনো সিগন্যালিং ছাড়াই বন্ধ স্টেশন দিয়ে চলাচল করতে হবে। বন্ধ স্টেশনগুলোতে আগে দুই মিনিট করে বাড়তি সময় গেলেও গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে এক মিনিট করা হয়েছে। ৭০১ নম্বর ট্রেনের ক্ষেত্রে বন্ধ সব স্টেশনে এক মিনিট সময় দেওয়া হলেও ৭০২ নম্বর ট্রেনের ক্ষেত্রে লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম সেকশনে বন্ধ স্টেশনগুলোর জন্য কোনো সময় দেখানো হয়নি। অথচ এই সেকশনে প্রায় ১০টি স্টেশন বন্ধ রয়েছে। সেখানে আগে দুই মিনিট করে বেশি সময় লাগত চলাচলে অর্থাৎ ১৬ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচলের কথা ছিল। কিন্তু নতুন সময়সীমায় কোনো সময় উল্লেখ না করায় ৭০২ নম্বর সুবর্ণ ট্রেনটি ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে চলাচল করছে ওই সেকশনে। এতে সেখানে বিভিন্ন লুপ লাইন দিয়ে অতিক্রমের সময় যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।


মন্তব্য