kalerkantho


রংপুরে জাপার ঘাঁটি নড়বড়ে

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রংপুরে জাপার ঘাঁটি নড়বড়ে

‘নাঙ্গলের (লাঙল) দিন আর নাই বাহে। হামরা এ্যালা কলের নাঙ্গল দিয়া ভুঁই (জমি) চাষ করি।

ভোটোত এরশাদের নাঙ্গল মার্কারও সেই দশা হইছে। ’ গত ২২ মার্চ দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে খোদ রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পরাজয়ের পর এক ভোটার এমন মন্তব্য করেন। রংপুর বিভাগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জাতীয় পার্টির ভরাডুবি হয়েছে।

জাপার ঘাঁটি বলে পরিচিত এ বিভাগে দিন দিন কমছে জাপার জনপ্রিয়তা। এর আগে উপজেলা ও সংসদ নির্বাচনেও দলটি ভালো করতে পারেনি। বিভাগের তিন জেলার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ ও দুটি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর একটিতেও জাতীয় পার্টির মেয়র ও চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জয়লাভ করতে পারেননি। তাঁরা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। নিজেদের মধ্যে কোন্দল আর দলাদলির কারণে এমন ভরাডুবি হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।

এ ছাড়া জাপাকে আর কেউ বিশ্বাস করতে চায় না, তাই এ ভরাডুবি। এর আগে উপজেলা নির্বাচনেও দলটি ভালো করতে পারেনি। রংপুর সদরসহ আট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে তিনটিতে জাপার প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। বাকি পাঁচটিতে হারতে হয় তাঁদের।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মার্চ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এখানে জাপার কোনো প্রার্থীই ছিল না। হেরে যাওয়ার ভয়ে তাঁরা প্রার্থী দেয়নি বলে জাপাভক্তরা মনে করে। অথচ এক সময় কাউনিয়া-পীরগাছা এলাকা ছিল জাপার নিশ্চিত আসন।

এর আগে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এই বিভাগের আট জেলার ১৯টি পৌরসভা নির্বাচনে ছয়টিতে মেয়র প্রার্থী দিতে পারেনি জাতীয় পার্টি। বাকি ১৩টির মধ্যে শুধু কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভায় মেয়র নির্বাচিত হন আবদুর রহমান মিয়া।

এ ছাড়া গত ২২ মার্চ রংপুর বিভাগের দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও রংপুর জেলার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বেশির ভাগ ইউনিয়নে লাঙল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকলেও একটিতেও তাঁরা জয়লাভ করতে পারেননি।

রংপুর শহরের খুব কাছেই পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়ন। ২২ মার্চের নির্বাচনে এ ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন আবদুল জলিল সরকার। তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুর আলমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। নব্দীগঞ্জ এলাকার জাপা সমর্থক আউয়াল মিয়া ও ছালাম শেখ জানান, দলের অবস্থা ভালো না। পার্টির চেয়ারম্যান একেক সময় একেক ধরনের কথা বলেন। এ ছাড়া নেতাকর্মীদের মধ্যেও সমন্বয় নেই। আবার কখন কে বহিষ্কার হন সে ভয়ে কেউ আর ভালোভাবে কাজ করেন না। জাপার প্রতি আস্থাও নেই মানুষের। অথচ এক সময় ছিল লাঙল প্রতীক হলেই সে প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করতেন। সে অবস্থা দিন দিন শূন্যের কোঠায় নামছে। এ কারণেই ইউপি নির্বাচনে জাপার ভরাডুবি হয়েছে।

একই অবস্থা পঞ্চগড় ও দিনাজপুরেও। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সদের আলী, বিএনপির মাহফুজুর রহমান, জাপার রেজাউল করিমসহ পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ ইউনিয়নে বিএনপির মাহফুজার রহমান লাবলু নির্বাচিত হন। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী রেজাউল করিম বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। একইভাবে অন্য ইউনিয়নগুলোতেও জাপার প্রার্থীরা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।


মন্তব্য