kalerkantho


কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানাল পুলিশ

ওমর ফারুক   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানাল পুলিশ

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাউকে অবরুদ্ধ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান নেবে। কোনো প্রাণহানি যাতে না ঘটে সে কারণে আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনী এলাকাগুলোতে আগে থেকেই পুলিশের তরফ থেকে সতর্কতার কথা জানানো হচ্ছে। প্রার্থীদের ডেকে পুলিশ জানিয়ে দিচ্ছে আগাম সতর্ক বার্তা। পাশাপাশি প্রার্থীদের সমর্থকদেরও সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। এর পরও যদি কেউ অবৈধ কর্মকাণ্ড করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হচ্ছে পুলিশের তরফ থেকে। গত মঙ্গলবার প্রথম দফায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলি ও সংঘর্ষে ১১ জন নিহত হওয়ার বিষয়টিও পুলিশ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে তাদের।

গত মঙ্গলবার দেশের ৭১২টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রথম দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বিজিবির গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়। আহত হয় কমপক্ষে ৩০ জন। এ ছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফে গুলিতে দুজন, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও নেত্রকোনায় একজন করে নিহত হয়েছে। ভোটগ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছে সহস্রাধিক ব্যক্তি।

এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শতাধিক সদস্যও আহত হয়েছেন। ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পর থেকে প্রথম দফা নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত নিহত হয় ১০ জন। মঙ্গলবার নির্বাচনের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় আরো ১১ জন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী সংঘাতে নিহত ২১ জন।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র থেকে প্রতিপক্ষের এজেন্টদের বের করে দেওয়া কিংবা ঢুকতে না দেওয়া, বুথ দখল করে এবং ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারা, ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা, ভোটকেন্দ্রের বাইরে পেশিশক্তি প্রদর্শন করলে তা প্রতিহত করা হবে। ’ তিনি বলেন, ‘যেসব পুলিশ সদস্য মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন তাঁদের এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হলে কোমরের নিচে গুলি করার জন্য নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের গুলিতে কেউ নিহত হোক এটা আমরা কখনো চাই না। পরিবারের একজন লোক নিহত হলে কী অবস্থা হয় সে বিষয়ে আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু একেবারেই অপারগ হয়ে গুলি করতে হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ’ তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের অস্ত্র নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে যায়। সেটা তো সবারই জানা। এর পরও যদি তাঁদের ওপর হামলা করতে আসে তাহলে তাদের বুঝতে হবে গুলি চলতে পারে। আর গুলি চললে মৃত্যু হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এর পরও কেন তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা করতে যায়। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যদি কোথাও এভাবে প্রিসাইডিং অফিসার, ম্যাজিস্ট্রেট বা বিজিবির ওপর কেউ হামলা করতে আসে তাহলে তো গুলি চালাতেই হবে। আমাদের দায়িত্বে পাঠানো হয় জানমাল রক্ষার জন্য। সেখানে আমরা চাই কোনো মানুষের জীবনহানি না ঘটুক। কিন্তু সেই এলাকার মানুষগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। গুলি চালাতে হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে তাদের বিরত থাকতে হবে। ’

আগামী ৩১ মার্চ গাজীপুরের কালীগঞ্জের বাহাদুরসাদী, বক্তারপুর, জামালপুর, জাঙ্গালিয়া, মোক্তারপুর, নাগরী, তুমুলিয়া—সাতটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে গাজীপুরের পুলিশ সুপারের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রথম দফা নির্বাচনে যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে সেগুলো মাথায় রেখে আমরা নিরাপত্তা জোরদার করছি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের সঙ্গে আগে থেকেই কথা বলছি যাতে কোনো ধরনের ঝামেলা না করেন। যদি তাঁরা বেআইনি কিছু করেন তাহলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ’

রংপুর জেলার পীরগঞ্জের বড়দরগাহ, ভেণ্ডাবাড়ী, চৈত্রকোল, কুমেদপুর, মদনখালী, টুকুরিয়া, চতরা, কাবিলপুর, মিঠিপুর, পাঁচগাছিয়া, শ্যানেরহাট ইউনিয়নে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ওই ১১টি ইউনিয়নে ১০৭টি কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেও পুলিশ আগেভাগেই সহিংসতা এড়াতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে যাতে নির্বাচন শেষ হয় সে জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রার্থী ও সমর্থকদের বোঝাচ্ছি এখন। এর পরও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েই পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। ’ তিনি বলেন, ‘কোনো প্রাণহানি হোক সেটা আমরা কখনোই চাই না। ’


মন্তব্য