kalerkantho


বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

৯ বছরেও সিনেট সভা হয়নি

রংপুর অফিস   

২৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৯ বছরেও সিনেট সভা হয়নি। বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পর তিন বছর অতিবাহিত হলেও নেওয়া হয়নি সে উদ্যোগ।

এতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত ভেস্তে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্ট অনেকেই।

২০০৯ সালের ২৯ নম্বর আইন দ্বারা পরিচালিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯(১) ধারা অনুযায়ী, ‘সিনেট চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে, বৎসরে অন্তত ০১ (এক) বার, সিনেটের সভা অনুষ্ঠিত হইবে : তবে শর্ত থাকে যে, সিনেট চেয়ারম্যান শিক্ষাবর্ষের যে কোনো সময় সিনেটের বিশেষ সভা আহ্বান করিতে পারিবেন। ’ তবে দীর্ঘদিনেও সিনেট সভা আহ্বান করেননি সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুল জলীল মিয়া এবং বর্তমান উপাচার্য ড. এ কে এম নূর-উন নবী।

আইনের ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ‘সিনেটের ক্ষমতা ও দায়িত্ব’ সম্পর্কে বলা হয়েছে (ক) সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রস্তাবিত সংবিধি অনুমোদন, সংশোধন ও বাতিল করিতে পারিবে। (খ) নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সিন্ডিকেট কর্তৃক পেশকৃত প্রস্তাব, বার্ষিক প্রতিবেদন, বার্ষিক হিসাব ও বার্ষিক সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রস্তাব বিবেচনাক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে। ’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু ছালেহ মোহাম্মদ ওয়াদুদুর রহমান তুহিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ বছর ধরে সিনেট হয় না। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-সংবিধি ও প্রবিধি করার জন্য সিনেটের প্রয়োজন হয়। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিনেট না হলে পরে সেখানে এগুলো অনুমোদন হয় না। এতে বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-সংবিধি ও প্রবিধি হওয়ার (প্রণয়নের) জন্য সিনেট (সভা) হওয়া খুবই জরুরি। তিনি আরো বলেন, প্রথম উপাচার্যের সময় সিনেট গঠনই হয়নি। আর পরের দুই উপাচার্যের সময়ে (সিনেট গঠনের পর) একবারও সিনেট সভা আহ্বান করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সচল রাখতে হলে বছরে অন্তত একবার সিনেট আহ্বান করা দরকার। কিন্তু কোনোভাবেই কেউ সেটা কার্যকর করছেন না। সিনেট হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সমস্যা সমাধান হওয়ার সুযোগ ছিল। সিনেট সভা না হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান সমস্যা সরকারকে জানানো সম্ভব হচ্ছে না বলেও তিনি মনে করেন।

সিনেট সদস্য লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে বলেছি, আমাদের সিনেট সদস্য বানালেন কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো মিটিং নেই (অর্থাৎ আমাদের আহ্বান করলেন না)। ’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ’


মন্তব্য