kalerkantho


আত্মপ্রচারে ছাত্রলীগ নেতার প্রতারণা

তৈমুর ফারুক তুষার   

২৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ছাত্রলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছে। সংগঠনের অন্যান্য নেতাসহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগও হয়েছে; কিন্তু এতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি।

নিজেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে জাহির করতে একপর্যায়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছেন ফেসবুকে। আলোচিত ব্যক্তিটি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি বায়জিদ আহমেদ খান।

কিছুদিন আগেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চিঠি দিয়ে আত্মপ্রচারে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার প্রকাশে নিষেধ করেন। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদেরও বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের আত্মপ্রচারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহারের কঠোর সমালোচনা করে থাকেন। ছাত্রলীগ নেতা সেসব নিষেধাজ্ঞা ও সমালোচনা তো মানেনইনি, এমনকি আত্মপ্রচারে বড় ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা চরম ক্ষুব্ধ।

আত্মপ্রচারে মরিয়া বায়জিদ গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর নিজের ফেসবুক পেজে চারটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিগুলোর একটিতে দেখা যায়, টেবিলের এক পাশে থেকে অপর পাশে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিচ্ছেন বায়জিদ।

ছবিটি ফেসবুকে প্রকাশের পরই ছাত্রলীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা কালের কণ্ঠকে জানান যে ছবিটি আসল নয়। পরে সম্পাদনাকৃত ছবিটির আসল কপি কালের কণ্ঠের হাতে আসে। সেখানে দেখা যায়, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিচ্ছেন। সঙ্গে বায়জিদও আছেন। অথচ বায়জিদ সম্পাদনা করে ছবিটি থেকে অন্য ছাত্রলীগ নেতাদের অস্তিত্ব মুছে দিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার দুপুর ১টার পর বায়জিদ আহমেদ তাঁর ফেসবুকের কভার ফটো পরিবর্তন করেন। তাতে দেখা যায়, গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিচ্ছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কম্পিউটারে ফটোশপ প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবিটি বিকৃত করে ফেসবুকে দিয়েছেন বায়জিদ। কালের কণ্ঠের হাতে থাকা প্রকৃত ছবিতে দেখা যায়, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন ও বায়জিদ আহমেদ মিলে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিচ্ছেন। সোহাগ ও সাব্বিরকে ছবি থেকে মুছে দিয়ে এবং রং ও আলো পরিবর্তন করে ছবিটি ফেসবুকে দেন বায়জিদ।

ছবি সম্পাদনার বিষয়ে জানতে চাইলে বায়জিদ আহমেদ বলেন, ‘ছবিটি আসল, শুধু পাশে থেকে অন্যদের সরানো হয়েছে। তবে সিনিয়রদের ছবি থেকে মুছে দেওয়াটা ঠিক হয়নি। ’

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল এ ব্যাপারে বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তুলে প্রচার করলে তাতে দোষের কিছু নেই। তবে ফটোশপের মাধ্যমে সম্পাদিত ছবির প্রচার কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। ’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ছবি যেখানে অনুমতি নিয়ে তুলতে হয় সেখানে তাঁর ছবি সম্পাদনা করে প্রকাশ করা অপরাধ। তবে অনেক সময় দলের নেতাকর্মী বিবেচনা করে এ অপরাধগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়। ’

প্রসঙ্গত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদার রহমান মাকসুদ ফটোশপে সম্পাদনা করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি ছবি তাঁর ফেসবুকে পোস্ট করেন। এ ঘটনা জানাজানির পর মাকসুদকে সাময়িক বহিষ্কার করে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।

আরেক ঘটনায় গত ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য এম এ লতিফের একটি ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করা হয়। এ নিয়ে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এ ঘটনায় যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি এম এ লতিফের বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও দায়ের করেন।


মন্তব্য