kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


পল্লী এলাকায় সুপেয় পানির জন্য ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের পল্লী এলাকায় সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে ৬৪ হাজার বিভিন্ন ধরনের পানির উৎস, ১৪৩টি পুকুর পুনঃখনন ও ২০০টি নতুন পুকুর খননের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার সার্বিক চিত্র তুলে ধরে প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মাহবুবুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. ওয়ালী উল্লাহ, অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী (পানিসম্পদ) দেলোয়ার হোসেন, অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ত) শহীদ ইকবাল, বিআরডাব্লিউএসএসপি কার্যক্রমের প্রকল্প পরিচালক এ কে এম ইব্রাহিম প্রমুখ।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি হয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে এবং স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে খোলা জায়গায় মলত্যাগ হ্রাস হয়েছে।

২০১৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের শতকরা ৮৭ ভাগ জনসাধারণ নিরাপদ পানি সরবরাহের আওতায় এসেছে। ডিপিএইচই-এর তথ্য মতে আর্সেনিক আক্রান্ত উেসর হার ২৩ শতাংশ (১৯৯৭) থেকে হ্রাস পেয়ে বর্তমানে প্রায় ১২ শতাংশ (২০১৫) হারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনায় শতকরা ৬১ ভাগ উন্নত স্যানিটেশনের আওতায় এসেছে ও খোলা জায়গায় মলত্যাগের হার শতকরা ১ ভাগে নেমে এসেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের অর্জনের তুলনায় এ অর্জনের বিষয়টি ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। বর্তমান ব্রিফিংয়ে দেওয়া তথ্যে জানানো হয়, জাতীয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন নীতিমালা ১৯৯৮ অনুযায়ী পল্লী এলাকায় সরকার পর্যায়ক্রমে প্রতি ৫০ জনের জন্য একটি করে পানির উৎস স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বর্তমানে চালু ১১টি প্রকল্পের পাশাপাশি সম্প্রতি ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, যার আওতায় পল্লী এলাকায় প্রায় ৬৪ হাজার বিভিন্ন ধরনের পানির উৎস, ১৪৩টি পুকুর পুনঃখনন ও ২০০টি নতুন পুকুর খনন করা হবে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া আরো ৮০০টি পুকুর পুনঃখননের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ করার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন আছে।

ওই তথ্যে উল্লেখ করা হয়, স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের আমলে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ১০৩টি স্বল্পমূল্যের ল্যাট্রিন ও তিন হাজার ৫৩৬টি পাবলিক/কমিউনিটি ল্যাট্রিন স্থাপন করা হয়েছে। ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্যানিটেশন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, যার আওতায় দুই লাখ ৫০ হাজার স্বল্পমূল্যের ল্যাট্রিন নির্মাণ, ৪৩ হাজার উন্নত মানের ল্যাট্রিন এবং প্রায় এক হাজার পাবলিক/কমিউনিটি ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তা ছাড়া ইতিমধ্যে পার্বত্য অঞ্চল ও হাওর এলাকার জন্য পৃথক প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


মন্তব্য