kalerkantho


রাজশাহী কলেজে আতঙ্ক ছাত্রলীগ নেতা নাইম

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



তিনি রাজশাহী কলেজে ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। পুরো নাম নাইমুল হাসান।

এই নাইমের নানা অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে রাজশাহী কলেজসংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর কথা না শোনার কারণে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে অন্তত ২০ শিক্ষার্থীকে। প্রায় এক বছর ধরে রাজশাহী কলেজকে নিজের কবজায় রেখেছেন ছাত্রলীগ নেতা নাইম। আর কলেজের এমন কোনো উন্নয়নমূলক কাজ নেই, যে কাজের জন্য নাইম বাহিনীকে চাঁদা দিতে হয় না।   এসব নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ শিক্ষক থেকে শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থী—এমনকি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও।

রাজশাহী কলেজ সূত্র জানায়, এ কলেজে মোট তিনটি হোস্টেলের সাতটি ব্লকে প্রতিবছর ৫৫-৬০টি আসন ফাঁকা হয়। এই ফাঁকা আসনগুলোয় শিক্ষার্থী উঠানোর জন্য কলেজ ছাত্রলীগের সুপারিশ নিতে হয়। সেই সুযোগে ছাত্রলীগ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে চার-পাঁচ হাজার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে থাকে। এক বছর ধরে এই চাঁদা আদায়ের নেতৃত্বে রয়েছেন নাইম।

চাঁদা প্রদানকারী এক শিক্ষার্থী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নাইম ভাইকে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে হোস্টেলে উঠেছি। আবার মাঝেমধ্যেই তাঁর নাম করে দু-একজন এসে দু-এক শ করে টাকা নিয়ে যায়। ’

সূত্র জানায়, নাইমের কথা না শুনলেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধরে পেটানো হয়। চাঁদা না দিলে, ছাত্রলীগের মিটিং-মিছিলে অংশ না নিলে বা শিবির সন্দেহে পেটান নাইম এবং তাঁর বাহিনীর সদস্যরা।

সর্বশেষ গত ১৭ মার্চ রাতে কলেজের মুসলিম হোস্টেলের নিউ ব্লকে ঢুকে তাঁর সঙ্গে করমর্দন না করার কারণে তিন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করেন নাইম ও তাঁর বাহিনী। এর মধ্যে মামুন নামের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী এখনো হাসপাতালে চিকিৎসধীন। ওই ঘটনার পরে আতঙ্কে এখনো এক শিক্ষার্থী হোস্টেলে আসতে পারছে না বলে নিশ্চিত করেছেন কলেজের শিক্ষকরা।

এর আগে গত ৮ মার্চ ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ না নেওয়ায় রাজশাহীর স্থানীয় দৈনিক লাল গোলাপের সাংবাদিক আব্দুল কাদিরকে ধরে পেটানো হয়। এর কয়েক দিন আগে ছাত্রলীগের মিছিলের মধ্যে স্লোগান দিতে দেরি হওয়ায় ফিরোজ নামের এক ছাত্রলীগকর্মীকে ধরে পেটান নাইম।

রাজশাহী কলেজের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাজশাহী কলেজের ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে কোনো ঝামেলা নেই। কিন্তু মাঝেমধ্যেই নানা সমস্যার সৃষ্টি করে চলেছে ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নাইমুল হাসান নাইম।

কলেজের আরেক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাদের সুপারিশে হোস্টেলের অন্তত ৯০ শতাংশ আসন পূরণ করা হয়। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই ওই ছাত্রলীগের নেতারাই আবার শিবির আখ্যা দিয়ে ছেলেদের ধরে ধরে পেটাতে থাকে। তাহলে শিবিরের কাছ থেকে টাকা নিয়েই কি হোস্টেলে আসন বরাদ্দের জন্য সুপারিশ করে ছাত্রলীগ?’

এসব বিষয়ে জানার জন্য নাইমের মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, ‘কিছু সমস্যা হলেও সেগুলো আমরা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। ’

জানতে চাইলে রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি রকি কুমার ঘোষ বলেন, ছাত্রলীগের কোনো নেতা সংগঠনবিরোধী কাজে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান বলেন, ‘কলেজে একটি ছাত্রসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা চলছে। ’


মন্তব্য