kalerkantho


রায়েরবাজারে এশিয়ার বৃহত্তম কবরস্থান

উদ্বোধন করলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রায়েরবাজারে এশিয়ার বৃহত্তম কবরস্থান

রায়ের বাজারে গতকাল উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ কবরস্থান উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকার রায়েরবাজারে এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম কবরস্থান উদ্বোধন করা হলো গতকাল শুক্রবার। ৯৬ দশমিক ২৩ একর জমির ওপর ৫০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত এ কবরস্থানে একসঙ্গে এক লাখ লাশ দাফন করা যাবে।

ইরাকে ১৫ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা একটি কবরস্থান এত দিন এশিয়ার সবচেয়ে বড় কবরস্থান হিসেবে বিবেচিত হতো।

রায়েরবাজারে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের পাশে গড়ে ওঠা কবরস্থানটি উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। উদ্বোধনকালে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যা কিছুই করি না কেন, কবরস্থান হলো আমাদের শেষ ঠিকানা। কদিন আর বাঁচব আমরা, অনন্তকাল ধরে এখানেই আমাদের থাকতে হবে। এমন একটি প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করতে পেরে আমি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করছি। ’

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার ঢাকাকে সাজানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। রাস্তা-ঘাট নির্মাণ ও যানজট নিরসনে নিরলসভাবে কাজ করছে। এর মধ্যে মেগাসিটি ঢাকা জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ শহরে কমপক্ষে তিন কোটি মানুষ বাস করবে।

সেটা মাথায় রেখেই আমরা ঢাকাকে গড়ে তুলছি। এর মধ্যে রায়েরবাজারে এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বড় কবরস্থানটি গড়ে তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছায় এবং স্থানীয় এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানকের পরিশ্রমে এ মহৎ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে। এ জন্য আমি তাঁদের অশেষ ধন্যবাদ জানাই। ’

খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানি কর্মকর্তা জি এম মাদানি যখন ঢাকা ইমপ্রুপমেন্ট ট্রাস্ট গড়ে তোলেন তখন আমি টাউন প্ল্যানার হিসেবে সেখানে যোগদান করি। মাদানি আমাকে বলেন, ভালোভাবে কাজ করেন। অচিরেই গুলশান-বনানীতে আধুনিক উপশহর গড়ে তোলা হবে। আপনি কর্মকর্তা হিসেবে সেখানে একটি প্লট পাবেন। একদিন সরকারি কাজে গুলশানের দিকে যেতে মহাখালীতে শিয়ালের দল দেখে গুলশানে প্লট পাওয়ার ইচ্ছা আমার শেষ হয়ে যায়। তখন গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া রেলস্টেশন থেকে সদরঘাট পর্যন্ত ঢাকা শহর ছিল। বর্তমানে সেটা বুড়িগঙ্গা থেকে তুরাগ নদ পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। ’

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা যত কিছুই করি না কেন, আমাদের সবাইকে কবরস্থানের শেষ ঠিকানায় আশ্রয় নিতে হবে। তাই এ স্থানটি আমরা পূত-পবিত্র রাখতে চাই। এখানে কাউকে দখলদারিত্ব চালাতে দেওয়া হবে না। কবরস্থানের খালি জায়গায় কোনো দোকানপাট হবে না, সেখানে গড়ে তোলা হলে ফুলের বাগান। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আগামী চার বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে। তখন বাইরে থেকে হঠাৎ করে কেউ ঢাকায় এলে এ শহরকে চিনতে পারবে না। এ জন্য আমি কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগের নেতাসহ সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। তাই কোনো দখলদার কখনো রায়েরবাজার কবরস্থানের খালি জায়গা দখল করতে আসবে না। এলে বড় ধরনের খেসারত দিতে হবে। ’ স্থানীয় এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘এত বড় একটি ধর্মীয় কাজে যাঁরা নিজেদের শেষ সম্বল জমিজমা দিয়ে সহযোগিতা করছেন আমি তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলতে চাই, মৃত্যুর পর যেন তাঁদের কবর জান্নাতের বাগানে পরিণত হয়। ’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি, স্থানীয় সরকার সচিব আবদুল মালেক ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি সাদেক খান।

রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধসংলগ্ন কবরস্থান উন্নয়ন প্রকল্পের যাত্রা ২০১১ সালের জুলাই মাসে। প্রকল্পটি শেষ হয় ২০১৫ সালের জুন মাসে।


মন্তব্য