kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ । ১১ মাঘ ১৪২৩। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮।


সুব্রত বাইন ও সাজ্জাদকে ফেরত পাচ্ছে বাংলাদেশ

ওমর ফারুক   

২৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও সাজ্জাদ হোসেনকে শিগগিরই ফেরত পাচ্ছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারতে ফেরত যাচ্ছে বলিউডের প্রযোজক এবং সংগীত প্রতিষ্ঠান টি-সিরিজের মালিক গুলশান কুমার হত্যা মামলার আসামি আবদুর রউফ ওরফে দাউদ মার্চেন্ট।

বর্তমানে দাউদ মার্চেন্ট বাংলাদেশে এবং সুব্রত বাইন ও সাজ্জাদ ভারতের কারাগারে বন্দি রয়েছে। দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে চিঠি চালাচালির পর এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে বহিঃসমর্পণ চুক্তি সই হওয়ার পরপরই সুব্রত বাইন ও সাজ্জাদকে ফেরত আনার জন্য আবেদন করা হয়। অনেক চিঠি চালাচালির পর ভারত তাদের ফেরত দিতে সম্মত হয়। ’ এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সুব্রত বাইন ও সাজ্জাদকে ফেরত আনা এবং দাউদ মার্চেন্টকে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ’

ভারতে থাকা বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও সাজ্জাদকে বহিঃসমর্পণ চুক্তির অধীনে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ভারত তিন বছর আগে সম্মত হয়েছিল। ২০১৩ সালের জুলাই মাসে নয়াদিল্লিতে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বাংলাদেশ অনুপ চেটিয়াকে ফিরিয়ে দেবে আর ভারত সুব্রত বাইন ও সাজ্জাদকে ফেরত দেবে।

২০০১ সালে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে। এদের মধ্যে ঢাকার অপরাধ জগতের তখনকার প্রভাবশালী সেভেন স্টার গ্রুপের প্রধান সুব্রত বাইনের নামও ছিল।

পুলিশ সূত্র জানায়, ১৯৮৭ সাল থেকে মূলত মগবাজারকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ায় সুব্রত বাইন। রাজধানীতে এ সময় সন্ত্রাসীদের দুটি গ্রুপ তৈরি হয়। এর একটির নাম দেওয়া হয় ফাইভ স্টার গ্রুপ, অন্যটি সেভেন স্টার গ্রুপ। সেভেন স্টার গ্রুপের নেতৃত্বে ছিল সুব্রত বাইন। ২০০০ সালের দিকে মুরগি মিলন খুনের পর সুব্রত বাইন কলকাতায় পালিয়ে যায়।  

অন্যদিকে ২০০০ সালের ১২ জুলাই চট্টগ্রামের বদ্দারহাটে মাইক্রোবাস থামিয়ে শিবিরের ক্যাডাররা গুলি চালিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ আটজনকে। এই হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বে ছিল সাজ্জাদ হোসেন। এইট মার্ডার মামলায় ২০০৮ সালের ২৭ মার্চ আদালত তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। এর আগেই সাজ্জাদ আরব আমিরাতে পালিয়ে গিয়ে সেখানে ব্যবসা শুরু করে। আমিরাতে ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের এক তরুণীকে বিয়ে করে ভারতে পাড়ি জমায়।


মন্তব্য