kalerkantho


সাংস্কৃতিক জোটের স্বাধীনতা উৎসব শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সাংস্কৃতিক জোটের স্বাধীনতা উৎসব শুরু

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও রবীন্দ্রসরোবর মঞ্চে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী স্বাধীনতা উৎসব। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে’ শীর্ষক এ উৎসবের উদ্বোধন করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

ড. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জন্য একই সঙ্গে গৌরবের ও বেদনার। যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে আনার গৌরব আর এর জন্য অনেক মূল্য দেওয়ার বেদনা। এই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা চলছে। বুদ্ধিজীবীদের নির্বোধ বলা হচ্ছে। শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সচেতন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আত্মত্যাগ ও ঐক্যবদ্ধতার ইতিহাস না ভুলে, সেই চেতনায় আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি ড. মুহাম্মদ সামাদ, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ফকির আলমগীর, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ঝুনা চৌধুরী, পথনাটক পরিষদের সহসভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আহমেদ গিয়াস, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজিনা ওয়ালী লীনা প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ।

এ আয়োজনে কবিতা, নাচ, গান, নাটকের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয় মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। সেই সঙ্গে সাংস্কৃতিক নানা আয়োজনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংস্কৃতিকর্মীরা।

সভাপতির বক্তব্যে গোলাম কুদ্দুছ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে গড়ে তুলতে সংস্কৃতিকর্মীরা অতীতের মতো কাজ করে যাবে। সব ধরনের অন্যায় ও কালিমাকে মুছে নতুন দিনের আহ্বান জানাবেন সংস্কৃতিকর্মীরা। কুমিল্লার থিয়েটারকর্মী তনু হত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২৯ মার্চের মধ্যে তনু হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।  

অনুষ্ঠান উদ্বোধনের আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন অতিথিরা। শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের শিল্পীরা। তাঁরা আরো গেয়ে শোনান ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’। কবিতা আবৃত্তি করেন তারিক সুজাত। ‘নোঙর তোলো তোলো’ গানের সঙ্গে সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যালোকের শিল্পীরা।

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফাহিম হোসেন চৌধুরী গেয়ে শোনান ‘ও আমার দেশের মাটি’। জাগো আর্ট সেন্টারের নৃত্যশিল্পীরা ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ গানের তালে নৃত্য পরিবেশন করেন। সংগীতমঞ্চের শিল্পীরা গেয়ে শোনান ‘খোঁজ খোঁজ বাংলাদেশ’ ও ‘আমার দেশে হূদয় মাঝে’। বহ্নিশিখার শিল্পীরা ‘গেরিলা গেরিলা, আমরা গেরিলা’ গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করেন। একক সংগীত পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী কল্যাণী ঘোষ।


মন্তব্য