kalerkantho


সন্ত্রাসে খেলনা ড্রোন ব্যবহারের আশঙ্কা

ফারজানা লাবনী   

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সম্প্রতিক সময়ে খেলনা ড্রোনের আমদানি বেড়েছে। বেশির ভাগই মিথ্যা ঘোষণায় আনা হচ্ছে। চালান আটকের ঘটনাও বেড়েছে। গত ছয় মাসে ১৬২টি চালান আটক করা হয়েছে। আগের ছয় মাসে আটক করা হয় ৭২টি চালান।

খেলনা ড্রোন ব্যবহার করে সন্ত্রাসের সুযোগও রয়েছে। জনবহুল এ দেশে ড্রোনের মাধ্যমে সন্ত্রাস-নাশকতা করা হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হবে। তাই এসব আমদানির বিষয়ে যথাযথ নজরদারি প্রয়োজন; সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। শুল্ক গোয়েন্দাদের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সম্প্রতি খেলনা ড্রোন আমদানি-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিয়েছে। এতে এসবের আমদানি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নীতিমালা তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর এবং শাহজালাল, শাহ আমানত ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে খেলনা ড্রোন আমদানি বেশি হয়। বাংলাদেশের সোনামসজিদ, আখাউড়া, বেনাপোল ও হিলি স্থলবন্দর দিয়েও এসব ড্রোন আসছে। বেশির ভাগই মিথ্যা ঘোষণায় আনা হচ্ছে। চীন, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত ও জাপান থেকে ড্রোন বেশি আসছে।

খেলনা ড্রোনের অনেক চালান রাজধানী ও অন্যান্য বড় শহরের নামিদামি বিভিন্ন শপিং মলের খ্যাতিসম্পন্ন দোকানের নামে অথবা শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে আসছে। শুল্ক গোয়েন্দারা তদন্ত করতে গিয়ে দেখেছেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কিছুই জানে না। যারা খেলনা ড্রোন আনছে তারা নামকরা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করছে। বেশির ভাগ ড্রোন মিথ্যা ঘোষণায় আনা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৈরি পোশাক দেশের প্রধান রপ্তানি খাত হওয়ায় এসব পণ্য ছাড়ে সময়ক্ষেপণ না করার নির্দেশনা রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগায় খেলনা ড্রোনের আমদানিকারকরা। তারা ড্রোনের কার্টনকে তৈরি পোশাকের কার্টন উল্লেখ করে দ্রুত ছাড় করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বন্দরে সম্পূর্ণ অটোমেশন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিটি চালান যাচাই করা সম্ভব হয় না। এ অবকাশে প্রায়ই খেলনা ড্রোনের চালান বন্দর থেকে খালাস করে নেওয়া হচ্ছে। শুল্ক গোয়েন্দারা এ বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ছয় মাসে ১৬২টি খেলনা ড্রোনের চালান আটক করা হয়েছে। আগের ছয় মাসে ৭২টি চালান আটক করা হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের দেশে ড্রোন হিসেবে খেলনা আমদানি হয়। এখন পর্যন্ত অন্য কোনো ধরনের ড্রোন আমদানি করা হয়নি। এসবের আমদানিবিষয়ক নীতিমালা প্রণয়নের জন্য কাস্টম কাজ করছে। অপব্যবহার রোধে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ’

মহাপরিচালক বলেন, খেলনা ড্রোনের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সুযোগ রয়েছে। সন্ত্রাসীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কাস্টম তাদের চেয়ে এগিয়ে থেকে কাজ করতে পারলে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, জনবহুল এ দেশে ড্রোনের মাধ্যমে সন্ত্রাস করলে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হবে। তাই খেলনা ড্রোন আমদানিতে কঠোরতা আরোপ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অনেক দেশেই ড্রোন সন্ত্রাসের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। যুদ্ধেও এসব ব্যবহার করা হচ্ছে। খেলনা ড্রোন দিয়েও সন্ত্রাস সম্ভব। তথ্যপ্রযুক্তির কারণে বিভিন্ন দেশের সন্ত্রাসীদের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হয়ে গেছে। ফলে এসবের ক্ষতিকর ব্যবহারের আশঙ্কা থাকেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে খেলনা ড্রোনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার। এসব রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে চালানো হয়। গোপন জায়গা থেকে খেলনা ড্রোনের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব। ঘটনা যে ঘটাবে তাকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। দূর নিয়ন্ত্রিত খেলনা মোটরসাইকেল এবং গাড়িও আমদানি করা হয়। এগুলোও সন্ত্রাসীদের দ্বারা ব্যবহূত হতে পারে। তাই খেলনা ড্রোনের আমদানিতে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।


মন্তব্য