kalerkantho


শ্যালা নদীতে জাহাজ চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সুন্দরবনের শ্যালা নদী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। নদীটিতে দুই দফায় জাহাজডুবির পর গতকাল বুধবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে নদীর নাব্যতা রক্ষার্থে গঠিত টাস্কফোর্সের সভা শেষে নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান এ তথ্য জানান।

একই সভায় বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণরোধে হাজারীবাগের ট্যানারিশিল্প সাভারে স্থানান্তরে সর্বশেষ আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ৩১ মার্চের পর হাজারীবাগে কোনো কাঁচা চামড়া ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বালু, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদীর ‘সীমানা চিহ্নিতকরণ পিলার’ সঠিক স্থানে স্থাপনের যেসব অসামঞ্জস্য রয়েছে সেগুলো দূর করে নতুন পিলার প্রতিস্থাপন করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শাহজাহান খান বলেন, ‘শ্যালা নদীতে প্রথমে তেলবাহী ট্যাংকার ও পরে কয়লাবাহী জাহাজ দুর্ঘটনায় পরিবেশগত কিছু হুমকির মতো দেখা দিয়েছে, এতে জাতিও উদ্বিগ্ন। বর্তমানে শ্যালা নদীতে যেসব জাহাজ আটকা পড়ে আছে সেগুলো চলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এরপর আর কোনো জাহাজ শ্যালা নদী দিয়ে চলাচল করবে না। এটি আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ’ তিনি জানান, বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণরোধে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। হাজারীবাগের ট্যানারিশিল্প সাভারে স্থানান্তরে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

নদীতীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জরিপকাজ অব্যাহত থাকবে। উদ্ধারকৃত জায়গায় বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃক সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প প্রণয়ন করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। আদি বুড়িগঙ্গা রক্ষার সার্বিক তদারকির কাজ করবে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।

মন্ত্রী বলেন, বালু, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদীর সীমানা চিহ্নিতকরণ পিলার সঠিক স্থানে স্থাপনে যেসব স্থানে অসামঞ্জস্য রয়েছে সেগুলো দূর করে নতুন পিলার প্রতিস্থাপন করা হবে। পাবনা জেলার বড়াল নদীর ওপর নির্মিত তিনটি রাস্তা অপসারণ করা হয়েছে। সেখানে সেতু তৈরি ও বনায়ন করা হবে।

নৌমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় সভায় অন্যান্যের মধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদসচিব ড. জাফর আহমেদ খান, নৌপরিবহনসচিব অশোক মাধব রায়, বিআইডাব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের কমোডর এম জাকিউর রহমান ভূঁইয়া ও ঢাকা ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী তাকসিম খান উপস্থিত ছিলেন।

ডুবন্ত জাহাজ উদ্ধারের কাজই শুরু হয়নি : আমাদের বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, সুন্দরবনে শ্যালা নদীতে ডুবে যাওয়া কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজটির উদ্ধারকাজ পাঁচ দিনেও শুরু হয়নি। এমভি সি হর্স-১ নামের ওই কার্গোটি সম্পূর্ণ অংশ পানির নিচে ডুবে আছে। জাহাজে থাকা কয়লা পানির সঙ্গে মিশে সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়ছে। কবে নাগাদ ওই কার্গো উত্তোলনের কাজ শুরু হবে তা নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারছে না।

এদিকে বন বিভাগের গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেছে। তদন্ত কমিটির প্রধান শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. কামাল উদ্দিন আহম্মেদ গতকাল সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (ডিএফও) কাছে তাঁর প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষকের গঠিত সাত সদস্যের কমিটি এবং বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের পাঁচ সদস্যের কমিটি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

ডিএফওর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী বন সংরক্ষক মো. কামাল উদ্দিন আহম্মেদ জানান, এমভি সি হর্স-১ নামের কার্গোটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তলা ফেটে ডুবে যায়। মাস্টারসহ স্টাফদের অদক্ষতার কারণে কয়লাবোঝাই ওই কার্গো সুন্দরবনের মধ্যে শ্যালা নদীতে ডুবে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুন্দরবনের ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা মো. সুলতান মাহমুদ জানান, কার্গোটির মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে গেছেন। মালিকপক্ষকে দ্রুত কার্গোটিকে উত্তোলনের জন্য বলা হয়েছে। তবে কবে থেকে কার্গোটিকে উত্তোলনের কাজ শুরু করা হবে তা তিনি জানাতে পারেননি।


মন্তব্য