kalerkantho


দূষণের রাসায়নিকে দুর্গন্ধ

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় পানিতে দুর্গন্ধের অভিযোগ অনেক দিনের। বেশ কয়েক বছর ধরে এমন অভিযোগ করা হচ্ছে, কিন্তু ঢাকা ওয়াসা কিছুই করতে পারছে না। দিন দিন পানিতে দুর্গন্ধ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।

ওয়াসার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তাদের পানির উৎস ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন নদী। এসব নদীতে দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পানি পরিশোধন করার জন্য প্রচুর পরিমাণে বিশোধক রাসায়নিক মেশাতে হয়, এতে দুর্গন্ধ বেড়ে যায়। এ অবস্থা থেকে সহজে পরিত্রাণ নেই। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পানি ব্যবহার করার ফলে মানুষ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যে পানি ঢাকা ওয়াসা থেকে সরবরাহ করা হয় তা ব্যবহারের উপযোগী নয়। পানি পরিশোধনের জন্য ক্লোরিন মেশানো হয়। কিন্তু ওয়াসা কর্তৃপক্ষ মাত্রাতিরিক্ত ক্লোরিন মিশিয়ে আরো সমস্যার সৃষ্টি করছে।

অনেক জায়গায় স্যুয়ারেজের পানি ওয়াসার পানিতে মিশে যাচ্ছে। ওয়াসাকে আরো সচেতন হতে হবে; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে সমাধানের পথে যেতে হবে। ’

সূত্র জানায়, রাজধানীতে পানির চাহিদার ১৫ শতাংশ মেটানো হয় সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার থেকে। শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গার পানি এনে সেখানে শোধন করা হয়। কিন্তু আশপাশের নদীতে পয়োবর্জ্য ও শিল্পবর্জ্য এমন পরিমাণে এসে পড়ছে যে এগুলোর পানি শোধন করেও ব্যবহারের উপযোগী করা যাচ্ছে না। দূষণের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে সায়েদাবাদ শোধনাগার শীতলক্ষ্যার পানি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় শোধন করতে পারছে না। ফলে রাজধানীবাসীকে দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

নগরবাসীর বক্তব্য, শোধনাগারে পানি বিশুদ্ধ করার পরও দুর্গন্ধ থেকে যাচ্ছে। পানিতে ছোট ছোট পাথরের মতো কণাও পাওয়া যায়। এ পানি ফোটানোর পরও খাওয়া যায় না।

নদীর পানিতে কেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (সিওডি) সাধারণত চার থেকে ১২ মিলিগ্রাম হওয়ার কথা; কিন্তু ঢাকার আশপাশের নদীর পানিতে এর মাত্রা ২৮ মিলিগ্রাম থেকে ১২৮ মিলিগ্রাম। এ ছাড়া এ পানিতে বিভিন্ন মাত্রায় এসিড, পারদ, ক্লোরিন, আর্সেনিক প্রভৃতি রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে; বিভিন্ন পদার্থের কণাও অদ্রবীভূত অবস্থায় রয়েছে।

বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানির পরিমাণ বেশি থাকে বলে সমস্যা একুট কম হয়। শীতে পানি কম থাকার কারণে সমস্যা বেড়ে যায়। সে সময় শীতলক্ষ্যার পানি শোধনের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে ঢাকার একটি বড় অংশের মানুষ অস্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।


মন্তব্য