kalerkantho


সিলেটে জয়জয়কার ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের

সিলেট অফিস   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সিলেটে জয়জয়কার ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের

সিলেটে প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের জয়জয়কার। সদর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের চারটিতেই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।

এর মধ্যে তিনটিতে আওয়ামী লীগ এবং একটিতে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী নির্বাচিত হয়েচেন। আর সমান দুটি করে ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন দুই দলের দলীয় প্রার্থীরা।

সিলেট সদর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে নির্বাচিত ক্ষমতাসীন দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা হলেন জালালাবাদ ইউনিয়নে মনফর আলী, খাদিমপাড়া ইউনিয়নে আফসর আহমদ ও টুলটিকর ইউনিয়নে এস এম আলী হোসেন।

এ ছাড়া খাদিমনগর ইউনিয়নে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী দেলোয়ার  হোসেন বিজয়ী হয়েছেন।

দুই ইউনিয়নে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। তাঁরা হলেন কান্দিগাঁও ইউনিয়নের নিজাম উদ্দিন ও মোগলগাঁও ইউনিয়নের হিরণ মিয়া।

একইভাবে দুটি ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। এর মধ্যে হাটখোলা ইউনিয়নে আজির উদ্দিন ও টুকেরবাজার ইউনিয়নে শহীদ আহমদ নির্বাচিত হয়েছেন।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচার শুরুর পর থেকেই বিদ্রোহীদের নিয়ে বিপাকে পড়ে আওয়ামী লীগ। তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিলেও ঠেকানো যায়নি। মূলত প্রার্থী নির্বাচনে স্বজনপ্রীতি এবং ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এমনটি হয়েছে বলে দলের নেতাকর্মীরা মনে করে।

জানা যায়, টুলটিকর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুল  মোছাব্বির তৃণমূলে মাত্র দুটি ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন। কিন্তু তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে তাঁকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। ফলে প্রজন্ম লীগ নেতা এস এম আলী হোসেন দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হন এবং বিজয়ী হন।

প্রার্থী নির্বাচনে হাটখোলা ইউনিয়নে ওয়ার্ড প্রতিনিধিদের সমানসংখ্যক  ভোট পান খুর্শিদ আলম ও মোশাহিদ আলী। মোশাহিদ আলী প্রায় ৩০ বছর ধরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে রয়েছেন। কিন্তু দ্বিতীয়বার মতামত না নিয়ে ওই ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় খুর্শিদ আলমকে। নির্বাচনে তিনি বিএনপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। একইভাবে খাদিমপাড়া ইউনিয়নে ভুল প্রার্থী নির্বাচনের কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

একইভাবে খাদিমনগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বিএনপির হলেও তিনি দলের মনোনয়ন পাননি। দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি জয়লাভ করেন।


মন্তব্য