kalerkantho


অপরাধ দমনে ৩৩ মোবাইল ট্র্যাকার কিনছে পুলিশ

আবুল কাশেম ও ওমর ফারুক   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে গত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সোয়েব আকতার আপন নামের এক স্কুল ছাত্রকে অপহরণ করা হয়। ঘটনার ১১ দিন পর খাগড়াছড়ির গুইমারা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

ধরা পড়ে ছয় অপহরণকারীও। পুলিশ এ সাফল্য পায় মোবাইল ট্র্যাকার ব্যবহার করে। নইলে কৌশলী এসব অপরাধীকে শনাক্ত করা দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়াত বলে মনে করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুধু এ স্কুল ছাত্র অপহরণ ও উদ্ধারের ঘটনাই নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এসব ঘটনায় অপরাধীরা নিত্যনতুন কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। এদের নানামুখী কৌশলের কাছে ‘অসহায়’ হয়ে পড়ছে পুলিশও। মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতায় পুলিশ একটা বিষয় নিশ্চিত হয়েছে যে, এসব অপরাধী শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তারে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার একটি জুতসই উপায় হতে পারে। আর সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ঢাকা মহানগর থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়েও পুলিশের জন্য মোবাইল ট্র্যাকার সংগ্রহের আবেদন জানানো হয়েছে।

পুলিশের সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো ৩৩টি মোবাইল ট্র্যাকার সংযোজনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এসব ট্র্যাকার কেনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও চেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া পুলিশের ব্যবহারের জন্য এক কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ভারত থেকে ১৪টি ঘোড়া কেনা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবে অপরাধীদের অপতত্পরতা দমনে দ্রুত কার্যকর ও নিরাপদ অপারেশনের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে মেট্রোপলিটন পুলিশের জন্য পাঁচটি, জেলা পুলিশের জন্য ২৬টি ও সদর দপ্তরের জন্য দুটি মোবাইল ট্র্যাকার মেশিন টিওঅ্যান্ডই ভুক্তকরণের কথা বলা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, পুলিশের জন্য ৩৩টি মোবাইল ট্র্যাকার কেনার প্রস্তাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। এখন অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই এগুলো কেনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুুক ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ বেড়ে গেছে। ফলে দেশে যে মোবাইল ট্র্যাকারগুলো রয়েছে, তা দিয়ে কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই অত্যাধুনিক আরো মোবাইল ট্র্যাকার চাওয়া হয়েছে। সেগুলো পাওয়া গেলে অপরাধ দমন পুলিশের জন্য আরো সহজ হবে। ’

এ ছাড়া পুলিশ সদর থেকে পুলিশের অপারেশনাল কাজে ব্যবহারের জন্য ১৪টি ঘোড়া কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য ছাড়পত্র পেতে গত ১৬ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গেছে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর অপরেশনাল কাজের জন্য ১৪টি ‘রাইডিং হর্স’ কেনা দরকার। ভারত থেকে কেনা হবে ঘোড়াগুলো। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ঘোড়ার দাম পড়বে ১০ হাজার ৬৫০ ডলার বা আট লাখ ২৮ হাজার ৫৭০ টাকা। অর্থাৎ ১৪টি ঘোড়া কিনতে খরচ হবে এক কোটি ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৯৮০ টাকা।


মন্তব্য