kalerkantho


বিচারকদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শেষ হয়েও হয় না

রেজাউল করিম   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নিম্ন আদালতের বিচারকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব এক মাস আগে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। সরকার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি না করায় প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব গত অক্টোবরে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হলেও এ-সংক্রান্ত আইন সংশোধন না হওয়ায় তা কার্যকর হচ্ছে না।

সরকারি চাকুরেদের জন্য অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণার পর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়ে এরই মধ্যে তা কার্যকরও হয়েছে। গত জুলাই থেকে বর্ধিত বেতনের বকেয়া অংশও পেয়েছেন তাঁরা। কিন্তু বিচারকদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় একে বিচারকদের প্রতি বড় ধরনের বৈষম্য বলে মনে করছেন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা।

আইনসচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, নিম্ন আদালতের বিচারকদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন যখনই জারি করা হোক, ২০১৫ সালের জুলাই মাস থেকে সেটি কার্যকর হবে। বিচারপতিদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত আইন জাতীয় সংসদে সংশোধিত আকারে পাস হওয়ার পর সেটিও গত জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বিচারকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি-সংক্রান্ত বিষয়টি প্রক্রিয়া অনুযায়ী এগোচ্ছে।

নিম্ন আদালতের বিচারকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব কয়েক মাস ঝুলে থাকার পর গত ২২ ফেব্রুয়ারি তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়। কিন্তু এখনো এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় সেটি কার্যকর হয়নি। আইন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে জানা যায়, এই প্রজ্ঞাপন জারির আগে প্রস্তাবটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে অর্থ মন্ত্রণালয়। আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের পর সেটি একটি কমিটির মাধ্যমে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এখনো অর্থ মন্ত্রণালয় ভেটিংয়ের জন্য প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়নি। নতুন স্কেলে পহেলা বৈশাখের জন্য ভাতা নির্ধারণ করেছে সরকার। যদি এপ্রিল নাগাদ নিম্ন আদালতের বিচারকদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত গ্রেজেট জারি না হয় তাহলে পরে যে বকেয়া দেওয়া হবে তার সঙ্গে এই বৈশাখী ভাতা যোগ হবে না বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের বেতন-ভাতা নির্ধারিত হয় একটি আইনের মাধ্যমে। ফলে তাঁদের বেতন-ভাতা বাড়াতে হলে সংশ্লিষ্ট আইনটি সংশোধন করতে হয়। এ আইন সংশোধনের প্রস্তাব গত বছর অক্টোবরে অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবটির ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের পর সেটি সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন হবে।

আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, অর্থ মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে ওই বিলটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় খুব শিগগির এর ওপর ভেটিং সম্পন্ন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

সব শেষ ২০০৯ সালে নিম্ন আদালতের বিচারকদের বেতান-ভাতা বাড়ানো হয়েছিল, যা কার্যকর হয় চার বছর পর ২০১৩ সালের জুলাই থেকে। ওই বেতন-ভাতা দেরিতে কার্যকর হলেও কোনো বকেয়া পাননি বিচারকরা।


মন্তব্য