kalerkantho


ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি

জব্দ ৫০ কম্পিউটার ঘিরে সিআইডির তদন্ত

রেজোয়ান বিশ্বাস   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জব্দ ৫০ কম্পিউটার ঘিরে সিআইডির তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরির ঘটনায় এ পর্যন্ত দুই শতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে দেখছে তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের ডিলিং রুম, ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিপার্টমেন্ট, সিকিউরিটি সার্ভিলেন্স ও তথ্যপ্রযুক্তি শাখার যে ৫০টি জব্দ কম্পিউটার তাদের জিম্মায় আছে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে তারা। এরই মধ্যে ২৫ কম্পিউটারের ফরেনসিক ইমেজ নিয়ে তা সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বাকি ২৫টি কম্পিউটার থেকেও ফরেনসিক ইমেজ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ধারণা, এই ৫০ কম্পিউটার থেকেই আলোচিত ব্যাংক কেলেঙ্কারির ‘থলের বিড়াল’ বেরিয়ে আসতে পারে।

সিআইডি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাক অফিস অব দ্য ডিলিং রুম, ফরেন এক্সচেঞ্জ, সিকিউরিটি সার্ভিলেন্স ও তথ্যপ্রযুক্তি শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ গমনে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এরই মধ্যে ফিলিপাইন যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে পাঁচ সদস্যের একটি দল। পুলিশের বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে একজন আইন কর্মকর্তাও ওই দলে থাকবেন। গত রবিবার এ জন্য আদালতে আবেদনও করা হয়েছে। এ সপ্তাহেই আদালতের আদেশ এসে যেতে পারে বলে সিআইডি সূত্র জানিয়েছে। ফিলিপাইনের বাংলাদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তারা সেখানে তদন্ত করবে। সিআইডির তদন্ত সূত্র জানায়, তারা ইন্টারপোল, এফবিআই, ফিলিপাইন-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানতে পেরেছে, ফিলিপাইনে ছয় ব্যক্তিকে টাকা চুরির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই ছয়জনকে সে দেশের আদালতের অনুমতি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল এ ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

মামলার তদারক কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক শাহ্ আলম বলেন, তদন্তে এরই মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, তদন্তের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন তাঁরা। প্রাথমিক তদন্তের পর এখন কাউকে কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে আট হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। মূল কার্যালয়ে কম্পিউটার ব্যবহার হয় প্রায় সাড়ে চার হাজার। এসব কম্পিউটারের প্রতিটির সঙ্গে আন্তঃসংযোগ থাকলেও ব্যাক অফিস অব দ্য ডিলিং রুম, ফরেন এক্সচেঞ্জ এবং সিকিউরিটি সার্ভিলেন্স ও আইটি শাখার কম্পিউটারগুলোতে আলাদা আন্তঃসংযোগ ছিল। এ কারণে এসব শাখার ৫০টি কম্পিউটারকে তাঁরা অধিক গুরুত্ব দিয়ে ফরেনসিক ইমেজ সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন সিআইডি কর্মকর্তারা। ওই বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, সাত দিন ধরে বিরামহীনভাবে তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। এরই মধ্যে তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ শাখা, বিএফআইইউ শাখা, পেমেন্ট শাখা, অ্যাকাউন্টস ও বাজেটিং শাখাসহ টিম ফরেক্স রিজার্ভ সার্ভারে শত শত স্ক্রিন শট (ইমেজ) সংগ্রহ এবং গুরুত্বপূর্ণ শাখার কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সিআইডির কর্মকর্তারা।

সিআইডি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ হেল বাকি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনাটি একটি ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম। এখন পর্যন্ত স্পর্শকাতর এ ঘটনার সঙ্গে চারটি দেশের অপরাধীচক্রের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, হংকং ও শ্রীলঙ্কায়ও এ ঘটনার তদন্ত চলছে। তাদের সঙ্গে তদন্ত কমিটির নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।


মন্তব্য