kalerkantho


শিগগির ফিলিপাইন যাবে সিআইডির উচ্চতর টিম

রিজার্ভের অর্থ চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনা তদন্তে এখনো কোনো কিনারা করতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। শতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও স্পর্শকাতর এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার, সিসি ক্যামেরা, নথিপত্র, মোবাইল ফোনসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কাজ করছেন। জানা গেছে, ঘটনার অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনে শিগগিরই সিআইডির উচ্চতর টিম ফিলিপাইন যাবে।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্তসংশ্লিষ্ট সিআইডির এক কর্মকর্তা বলেন, তদন্তের প্রাথমিক ধাপ এখনো শেষ হয়নি। অর্থ জালিয়াতি, সাইবার ক্রাইম ও আন্তদেশীয় অপরাধ নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে ফিলিপাইনের অপরাধীদের সঙ্গে বাংলাদেশি অপরাধীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা বা কর্মীদের সহযোগিতা ছাড়া শুধু বিদেশি অপরাধীদের পক্ষে এত বড় ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ঘটনায় বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে বের করতে পারলেই বিদেশি অপরাধীদের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে মনে করছেন তাঁরা। তবে কাজটি অনেক কঠিন।

অর্থ চুরির ঘটনা তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ও পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

ইন্টারপোলের সহায়তায় ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কার পুলিশের সঙ্গে যৌথ তদন্ত শুরু হলেও এখন পর্যন্ত তারাও তদন্তের কোনো অগ্রগতি সম্পর্কে সিআইডিকে জানাতে পারেনি।

সিআইডি সূত্র জানায়, তদন্তে এফবিআই প্রযুক্তিবিষয়ক ফরেনসিক ইস্যু, হ্যাকিং হওয়া সুনির্দিষ্ট কম্পিউটার ও আইপি অ্যাড্রেস চিহ্নিত করে ঘটনার সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। গতকাল সোমবারও এফবিআই প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বিষয়ে সিআইডির যোগাযোগ হয়েছে। আর ইন্টারপোলের মাধ্যমে বিদেশি অপরাধীদের সম্পৃক্ততার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র, শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনের নাগরিকরাও জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য রয়েছে দাবি করে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনাটি চারটি দেশের নেটওয়ার্কে ঘটেছে। মূলত আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় জড়িত। এ ঘটনার মূল হোতা ফিলিপাইনের ব্যবসায়ী কিম অং। তাকে গ্রেপ্তার করতে পারলে ঘটনায় জড়িত অন্যদের সম্পর্কেও জানা যাবে। তদন্তে ফিলিপাইনের সিনেটরদের সঙ্গে ইন্টারপোল যোগাযোগ রাখছে। শিগগিরই ঘটনার অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনে সিআইডির উচ্চতর টিম ফিলিপাইন যাবে।  

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (অর্গানাইজড ক্রাইম) মীর্জা আবদুল্লাহেল বাকী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিআইডির টিম কাজ করছে। ব্যাংক থেকে আলামত সংগ্রহ করে চলছে তদন্ত কার্যক্রম। সেই সঙ্গে ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মীসহ শতাধিক ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।


মন্তব্য