kalerkantho


সিলেটে নির্বাচনী মাঠে ব্যস্ত ‘লন্ডনিরা’

মন কাড়ার চেষ্টায় জনসেবা

পার্থ সারথি দাস   

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সিলেটে নির্বাচনী মাঠে ব্যস্ত ‘লন্ডনিরা’

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সামনে রেখে সিলেট অঞ্চলে অন্তত ৬০ জন ‘লন্ডনি’ এসেছেন। প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে প্রবাসীদের বড় অংশই যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাস করে। ইউনিয়ন পরিষদসহ সব  নির্বাচনেই প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে অথবা নিজ নিজ প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাতে তাঁরা সিলেটে আসেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের চার জেলায় ১০১টি ইউনিয়ন পরিষদ আছে। এগুলোর নির্বাচন হবে ধাপে ধাপে। প্রথম ধাপে সিলেট সদর উপজেলার আটটি ইউনিয়নে আজ মঙ্গলবার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ ছাড়া নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি চলছে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও বিশ্বনাথ; সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক এবং মৌলভীবাজার জেলার সদর, কুলাউড়াসহ বিভিন্ন উপজেলায়।

আজ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন ‘লন্ডনি’ ছাকিব জামান। তাঁর প্রতীক অটোরিকশা। ইউনিয়নে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী সাতজন। তাঁদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামান গ্রামে গ্রামে গণসংযোগ করছেন।

গতকাল সোমবার বিকেলে তাঁর কাছে পরিস্থিতি জানতে চাইলে বলেন, ‘দোয়া করবেন। আমার কোনো অভিযোগ-অনুযোগ নেই। ’ তিনি জানান, এর আগের ইউপি নির্বাচনেও তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিরণ মিয়াও ‘লন্ডন’ প্রবাসী।

সিলেট অঞ্চলে অন্যতম লন্ডনি অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলা। এখানে আগামী ৭ মে আটটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হবে। দুই বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী হতে উপজেলায় কমপক্ষে ৩০ জন লন্ডনপ্রবাসী এসেছেন। আগে থেকেই সমাজসেবায় অংশ নিয়ে তাঁদের অনেকে ভোটারদের মন কাড়ার চেষ্টা করছেন। উপজেলার কলকলি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে দেশে এসেছেন মো. আব্দুল হাশিম। সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি লন্ডন থেকে এসেছেন এলাকায়। এর আগে এসে ২৪ ডিসেম্বর ৭৮ জন লন্ডনির কাছ থেকে অনুদান নিয়ে ইউনিয়নের ৪২টি গ্রামে এক হাজার ৮৫০টি কম্বল বিতরণ করেছেন। হাশিম জানান, ১৯৭০ সালে তিনি লন্ডন পাড়ি দিয়েছিলেন। ১৯৯০ সাল থেকে লন্ডনের সাফক-এ বসবাস করছেন। হাশিম এর আগে ইউনিয়ন পরিষদে ২০০৩ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।  

একই ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন নিতে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এসেছেন রফিক মিয়া। হাশিম বলেন, ‘রফিক আমার বন্ধু। তিনি প্রার্থী হতে চান। ’ একই উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেতে লন্ডন থেকে এসেছেন মঞ্জুর এলাহী আফজল। মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের কারণে দুই সপ্তাহ আগে লন্ডন ফিরে গেছেন। তিনি আবার ফিরবেন বলে জানা গেছে।

এ উপজেলার চিলাউরা-হলদিপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে চান লন্ডনি জিল্লুর রশীদ লিল। গত ১৯ জানুয়ারি তিনি লন্ডন থেকে এলাকায় এসেছেন। তিনি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সেন্ট্রাল আলবস সিটি শাখা কমিটির সভাপতি। ১৯৮২ সালে তিনি লন্ডন যান। তাঁর বাবা হাবিবুর রহমান (হারিছ মিয়া) পাকিস্তান আমলে ইউনিয়ন কাউন্সিলে পর পর তিনবার চেয়ারম্যান ছিলেন। লিল জানান, ২০০৯ সাল থেকে দেশে আসা-যাওয়া করছেন। চিলাউরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন চার তলা ভবন নির্মাণ, চিলাউরা বাজার থেকে পুঞ্জী সড়ক পিচ করাসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেতে লন্ডন থেকে এসেছেন শাহ আবু ঈমানী। একই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেতে ছয় মাসেরও বেশি আগে থেকে দেশে এসেছেন আব্দুল আহাদ মদরিছ।

লন্ডনপ্রবাসী মো. আব্দুল হাশিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০০৯ সালে আমার কারণেই এলাকায় জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছিল। কলকলি ইউনিয়নের রাস্তাঘাট সংস্কার ও মেরামত করা সম্ভব হয়েছিল। প্রবাসীরা নির্বাচনে এলে প্রার্থী হতে চায়, এটা ঠিক। কিন্তু এর বাইরেও তারা উন্নয়নকাজ করে। ’ লন্ডনপ্রবাসীরা এলাকার শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, সিলেটের অন্যান্য স্থানেও লন্ডনিরা তত্পরতা শুরু করেছেন।


মন্তব্য