kalerkantho


বিদ্রোহ ও ঝুঁকির মধ্যেই তেঁতুলিয়ার নির্বাচন

আপেল মাহমুদ ও সাইফুল আলম বাবু, পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া সীমান্ত থেকে   

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিদ্রোহ ও ঝুঁকির মধ্যেই তেঁতুলিয়ার নির্বাচন

আজ দেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী তেঁতুলিয়া উপজেলার সব (সাতটি) ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে। এ জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

গতকালই সব কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জামসহ নিরাপত্তাকর্মীরা পৌঁছে গেছেন।

সাতটি ইউনিয়নে ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র থাকলেও উপজেলা প্রশাসন বলছে, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো হলো বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের বাংলাবান্ধা ও সিপাহীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তীরনই হাটের খয়খটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শালবাহানের বোয়ালমারী, বড় দলুয়াগছ ও আব্দুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কালান্দিগছ সিনিয়র মাদ্রাসা ও মাঝিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে বুড়াবুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভজনপুরে ডালিম উদ্দিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, দেবনগর ইউনিয়নে নন্দগছ ও আমজুয়ানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ভজনপুর ডিগ্রি কলেজ ও ভুটুজোত দাখিল মাদ্রাসা।

যেসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে তাতে অনেক প্রার্থী ও ভোটার দ্বিমত প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, যে সাতটি ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে এর সবগুলোই সীমান্তবর্তী। এখানে ২৪ ঘণ্টাই বিজিবির টহল এবং নিরাপত্তা অভিযান বহাল থাকে। বিজিবির বেষ্টনীর মধ্যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করার মতো পরিবেশ নেই।

গতকাল সোমবার ইউনিয়নগুলো ঘুরে দেখতে গেলে ভজনপুরে বিএনপির প্রার্থী মো. মকছেদ আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘ভজনপুরসহ আশপাশের ইউনিয়নগুলোয় বিএনপির অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ়। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা অর্থ ও প্রভাব-প্রতিপত্তি দিয়ে আমার নিশ্চিত জয় কেড়ে নেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে।

বুড়াবুড়ি, ভজনপুর ও দেবনগর ইউনিয়ন ঘুরে কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনা চোখে পড়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি। বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের জন্মস্থান হওয়ায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা নিশ্চিত জয়লাভ করবেন—এমন আশায় একাধিক প্রার্থী নির্বাচন করছেন। গত ২০ মার্চ ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরকে জনসংযোগ করতে দেখা গেছে। মূলত তাঁর সমর্থন বিএনপির যে প্রার্থী পাবেন তিনিই নির্বাচনে উতরে যাবেন।

তীরনই হাট ইউনিয়নে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন নেতাকর্মীদের সমর্থন না পেয়ে অসহায় অবস্থায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। সেখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল ইসলামই এখন মূল প্রার্থী। একইভাবে ভজনপুরে বিদ্রোহী প্রার্থী মোসলেম উদ্দিন ও বুড়াবুড়িতে বিদ্রোহী প্রার্থী তারেক হোসেন নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান সৃষ্টি করে মূল প্রার্থীদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

অন্যদিকে বাংলাবান্ধা, তেঁতুলিয়া, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরাই দল মনোনীত প্রার্থীদের কাল হতে পারেন বলে নেতাকর্মীরা আশঙ্কা করছে।

সাত ইউনিয়নের মধ্যে বাংলাবান্ধায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী কুদরত-ই-খুদা মিলন এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নায়বুল ইসলাম। বিএনপির প্রার্থী হলেন বিএনপির মো. শাহ আলম। তিরনই হাটে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তাহমিদ মিলটন ও বিএনপির মূল প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল ইসলামই বর্তমানে বিএনপির মূল প্রার্থী। তেঁতুলিয়া সদরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কাজী আনিছুর রহমান এবং বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন জাহাঙ্গীর আলম মিয়া। একমাত্র এ ইউনিয়নেই জামায়াতের জাহাঙ্গীর হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী হলেন সাইদুর রহমান বাবলু। শালবাহানে আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম লালু ও বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল হাকিম। এখানে বিএনপির প্রার্থী হলেন মতিয়ার রহমান। বুড়াবুড়িতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বাদশা সুলায়মান এবং বিএনপির প্রার্থী হলেন মো. কলিমউদ্দিন। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী তারেক হোসেন। ভজনপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এমদাদুল হক। এ ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত মকছেদ আলীর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন মোসলেম উদ্দীন। দেবনগরে আওয়ামী লীগ মনোনীত তরিকুল ইসলামের বিপরীতে ছলেমান আলী বিদ্রোহী প্রার্থী। এখানে বিএনপির প্রার্থী মহসিন উল হক।


মন্তব্য