kalerkantho


স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন

স্কুলে স্কুলে ভোট উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মোট ভোটার এক হাজার ৩৪৫ জন। আর প্রার্থী ৭৪ জন।

ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল ৯টায়। কিন্তু সকাল ৮টা থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ সারি। সবাই স্কুল ড্রেসে। তবে ভোটকেন্দ্রে নেই কোনো পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন। দুপুর ১২টা না বাজতেই প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়ে গেছে বলে জানালেন প্রিসাইডিং অফিসার সামিয়া আক্তার। গতকাল সোমবারের এ চিত্র রাজধানীর মিরপুরের সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের।

শুধু এই স্কুলই নয়, প্রথম দফায় অনুষ্ঠিত স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচনের প্রায় ১৮ হাজার মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসার চিত্র ছিল প্রায় একই। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও গতকাল স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন দেখতে রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যান।

মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের নির্বাচনে দশম শ্রেণি থেকে অংশ নেওয়া প্রার্থী নূর হোসেন বলে, ‘আমি সবার কাছেই ভোট চেয়েছি।

আশা করছি নির্বাচিত হব। বন্ধুরাও আমার পক্ষে কাজ করেছে। আমি প্রধানমন্ত্রী হতে চাই। ’ অন্য প্রার্থী ইশরাত জাহানের মনোবলও তুঙ্গে। সে বলল, ‘আমার বিশ্বাস সকলেই আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। আর আমাদের দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যেহেতু নারী তাই আমার স্কুলের প্রধানমন্ত্রীও হব আমি। যেহেতু বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির। তাই এই বিষয়েই আমি সবচেয়ে জোর দেব। ’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম রনি জানান, ‘নির্বাচনী সব দায়িত্বই পালন করছে শিক্ষার্থীরা। তবে তারা যেখানে বুঝছে না সেগুলোই শুধু আমরা তাদের বুঝিয়ে দিয়েছি। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হলো। ’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থাকায় আগামী ৩১ মার্চ বাকি চার হাজার ৮৫৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দুই দফায় এক লাখ ৮৩ হাজার ৯২৮টি পদের জন্য প্রায় পাঁচ লাখ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এবার মোট ভোটার ৯৭ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯৫ জন।

যশোর থেকে আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি জানান, যশোর জিলা স্কুলে গতকাল সোমবার ভোট উৎসবে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। নীরবে ভোটগ্রহণ চলছে। ছিল না কোনো হট্টগোল। অষ্টম শ্রেণির ভোটার রিফাত জানায়, ‘প্রথম ভোট দিচ্ছি। খুবই ভালো লাগছে। আমরাও নির্বাচিতদের নানা কাজে সহযোগিতা করব। ’ প্রার্থী দশম শ্রেণির ছাত্র মিরাজুল নয়ন বলল, ‘আমি নির্বাচিত হলে গাছ লাগাব। স্কুল পরিষ্কার রাখব। ’ প্রধানমন্ত্রী হতে আগ্রহী নবম শ্রেণির ছাত্র ফাহমিদ বলল, ‘আমি নির্বাচিত হলে জান-পরান দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করব। ’

মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, উৎসবের মধ্য দিয়ে জেলার ১১৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৩০টি মাদ্রাসায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের কথা বলে মেহেরপুর শহরের সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়, সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এবং কবি নজরুল শিক্ষা মঞ্জিলে নির্বাচন হয়নি। বিদ্যালয় তিনটি নির্বাচন না করায় তাদের শোকজ করেছে জেলা শিক্ষা অফিস।

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, উপজেলার ৬০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২৭টি দাখিল মাদ্রাসায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। হলদীবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক আবু এহিয়া কুসুম জানান, নির্বাচনে ৪২৫ ছাত্রছাত্রী ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। শিক্ষকদের সহযোগিতায় ছাত্ররাই নির্বাচন কমিশন, প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করে।

ফরিদপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের ২৭৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২২৪টি স্কুল ও ৫৪টি মাদ্রাসা। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল চন্দ্র মণ্ডল জানান, স্কুলপর্যায় থেকে নেতৃত্বের বিকাশ ও স্কুল পরিচালনার কাজে সহযোগিতা করার জন্য গতকাল ফরিদপুরের ২৭৮টি স্কুল ও মাদ্রাসায় স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


মন্তব্য