kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


হত্যার দায় নিয়ে বাবা জেলে অথচ শিশুসন্তান জীবিত

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হত্যার দায় নিয়ে বাবা জেলে অথচ শিশুসন্তান জীবিত

শিশুপুত্র হত্যার অভিযোগে বাবা রফিকুল ইসলাম (৪৫) বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। অথচ ঘটনার ১৫ দিন পর গতকাল সোমবার জানা গেল শিশু রবিন (১১) জীবিত রয়েছে। তাকে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি পুলিশ যে শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছিল তার পরিচয় কী। আর কেনই বা রফিকুল ইসলাম সন্তান হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে হত্যার দায় স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন রফিকুল ইসলাম। তবে অভিযোগ পুলিশের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি  সকালে নান্দাইলের ডাংরি এলাকায় একটি ক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় শিশুটির পরনের লুঙ্গির ভেতর একটি চিরকুট পাওয়া যায়। তাতে পাঁচটি মোবাইল ফোন নম্বর পাওয়া যায়। পরে লাশ আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় গত ১ মার্চ উপপরিদর্শক মো. মোতালেব চৌধুরী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই পাঁচটি মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে ডিবি পুলিশ।

ডিবি পুলিশ সূত্র জানায়, মোবাইল ফোন নম্বরগুলো ট্র্যাকিং করে দেখা যায়, একটি নাম্বার ভাটি বিলপাড় এলাকার বাসিন্দা দিনমজুর রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির। পরে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে রফিক পুলিশকে জানান, অজ্ঞাতপরিচয় ওই শিশুটি তাঁর পুত্র। দ্বিতীয় স্ত্রীকে ফাঁসানোর জন্য তাকে হত্যা করেছেন তিনি। পরে গত ৬ মার্চ আদালতে হাজির করলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রফিকুল ইসলাম। সেই থেকে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন।

এদিকে গতকাল সোমবার বিকেলে খবর পাওয়া যায়, শিশু রবিন জীবিত রয়েছে। তবে আহত অবস্থায় তাকে নান্দাইল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে রবিন জানায়, তার বাবা তাকে ঢাকার এক বাসায় কাজের জন্য দিয়ে এসেছিলেন। সেখানে ছয়তলার ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর অহত হয়। এরপর ঢাকায় তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে।

হাসপাতালে শিশু রবিনের চাচা হোসেন ও চাচি আছিয়া খাতুন বলেন, ‘আমরা গত পরশু ময়মনসিংহ কারাগারে গিয়ে রফিকুলের সাথে দেখা করেছি। এ সময় রফিকুল আমাদের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেছে পুলিশের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে পুত্র হত্যার দায় স্বীকার করেছে। ওই সময় রফিকুল আমাদের জানায় ঢাকায় এক বাসায় রবিনকে কাজের জন্য রেখে আসা হয়েছে। ’

নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘রবিনের ভাই নুরুল ইসলামই ওই সময় লাশ দেখে চিহ্নিত করছিল এটা তার ভাইয়ের লাশ। তার কথাতেই পুলিশ শিশুটির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে। ঘটনা পুনঃ তদন্ত করা হবে। ’ 

ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর ইমারত হোসেন গাজী জানান, ‘যেহেতু ঘটনার ভিন্ন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তাই রফিককে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ’


মন্তব্য