kalerkantho


ধীরগতির প্রতিবাদ করায় যাত্রীকে পিটিয়ে গাড়ির নিচে ফেলে হত্যা

মুন্সীগঞ্জ ও দাউদকান্দি প্রতিনিধি   

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দাদির জানাজা সকাল ১১টায়। জানাজা ধরার জন্য ভোরে একটি লোকাল বাসে করে ঢাকা থেকে রওনা দেন যুবক আবদুল আউয়াল সরকার। বাসটিতে ওঠার আগে তিনি চালক ও হেলপারকে তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য রাস্তায় কম থামানোর অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু অনুরোধ না রাখায় বাসচালক ও হেলপারের সঙ্গে আউয়ালের ঝগড়া বেধে যায়। এর জের ধরে বাসচালক মোবাইল ফোনে তাঁর এলাকার লোকজন ডেকে এনে আউয়ালকে পিটিয়ে অন্য একটি গাড়ির নিচে ফেলে হত্যা করে।

গতকাল রবিবার মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চরবাউশিয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলটি কুমিল্লার দাউদকান্দির টোল প্লাজার অদূরে। দাউদকান্দির থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত যুবক আবদুল আউয়াল (৩২) নিজেও একজন গাড়িচালক। তিনি ঢাকার মুগদা সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্সচালক। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবিরের ছেলে।

দাদির জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য ভোরে ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে আউয়াল তাঁর স্ত্রী-সন্তান, এক ভাই ও এক বোনকে নিয়ে লক্ষ্মীপুরগামী আল্লাহ মেহেরবান পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-০০১৭ নম্বরের একটি বাসে ওঠেন। আউয়াল বাসে ওঠার আগে চালককে অনুরোধ করেছিলেন, দাদির জানাজা ধরার জন্য বাসটি রাস্তায় রাস্তায় যেন দীর্ঘক্ষণ না থামিয়ে রাখেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়।

নিহতের ভাই আল-আমিন বলেন, “আমরা গাড়িতে ওঠার পরপরই চালক ও হেলপারকে আমার ভাই কতবার অনুরোধ করে বলছিল, ‘ভাই আমার দাদি মারা গেছে। আমরা জানাজায় যাব। দয়া করে জায়গায় জায়গায় থামিয়ে না রেখে তাড়াতাড়ি যান। ’

এ ব্যাপারে দাউদকান্দি থানার ওসি মো. আবু সালাম মিয়া জানান, হাসপাতাল থেকে লাশটি উদ্ধার করেছে দাউদকান্দি পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি মো. আবদুল আউয়াল বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ’

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এসআই মো. ইয়াসিন মুন্সী বলেন, ‘আমরা হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী দুর্বৃত্তদের নাম-ঠিকানা জানতে পেরেছি। ’


মন্তব্য