kalerkantho


হাকিমপুরের তিন ইউপি

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র, সংঘাতের আশঙ্কায় ভোটাররা

আপেল মাহমুদ, হিলি সীমান্ত থেকে   

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র, সংঘাতের আশঙ্কায় ভোটাররা

প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আগামীকাল মঙ্গলবার দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার তিন ইউপিতে ভোট নেওয়া হবে। এগুলো হলো—ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা খট্টমাধবপাড়া ইউনিয়ন, বোয়ারধার ইউনিয়ন ও আলীহাট ইউনিয়ন। প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ভোটাররাও অধীর আগ্রহে ভোটের অপেক্ষা করছেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির মনোনীত ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের ঘরে ঘরে হাজির হয়েছেন। সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্যরাও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিরামহীন প্রচার চালিয়েছেন। গতকাল রবিবার মধ্যরাতে প্রকাশ্যে প্রচারের সময়সীমা শেষ হয়েছে।

তবে উত্সবের আমেজের মধ্যেও ভোটারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা যাচ্ছে। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, ভোটের দিন পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। কারণ, তিন ইউপির অনেক কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক প্রার্থীও একই রকম আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

খট্টমাধবপাড়া ইউপিতে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মান্নান কালের কণ্ঠ’র কাছে অভিযোগ করেন, ‘বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে নানা কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। তারা ভোটারদের কাছে প্রচার করছে যে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রয়েছে। কিন্তু গোপনে ভিন্ন শলা-পরামর্শ করছে। ভোটের দিন তারা কেন্দ্র দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে ভোটের ফল বদলে দিতে পারে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে আগেভাগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ’

বোয়ারধার ইউনিয়নের একাধিক ভোটার জানান, হাকিমপুর তিন ইউপির মধ্যে বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। বিশেষ করে ভারত সীমান্তবর্তী খট্টমাধবপাড়া ইউনিয়নের প্রায় সব কেন্দ্রই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কারণ, সীমান্ত এলাকার অনেকেই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। ভোটের দিন টাকার বিনিময়ে তারা ভোটকেন্দ্র দখল করে নিতে পারে। এ জন্য প্রশাসন থেকে আগেভাগেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয়রা বলছে, গত ১৭ মার্চ ভারতের বিধানসভার নির্বাচনের কারণে সীমান্ত এলাকায় দুই দেশেই কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছিল। আগামীকালের ইউপি ভোটে এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে দাঙ্গাবাজরা সহিংসতার সুযোগ পাবে না।

হাকিমপুর উপজেলা অফিস সূত্র জানায়, তিন ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ১৩ জন, সাধারণ সদস্য পদে ১১৮ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য পদে ৪৬ জন প্রার্থী হয়েছেন। ভোটার সংখ্যা ৪৭ হাজার ৫৭৬ জন।

আলীহাট ইউপির প্রার্থীরা হলেন—গোলাম রসুল বাবু (নৌকা), এমদাদুল হক মাস্টার (ধানের শীষ), লোকমান আলী (লাঙল), মোখলেছার রহমান (স্বতন্ত্র) ও সাইদুল ইসলাম (স্বতন্ত্র)। সাইদুল ইসলাম উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক। বোয়ালধার ইউপির প্রার্থীরা হলেন সাহাদত হোসেন সাদো (নৌকা), মেফতাহুল জান্নাত (ধানের শীষ), আশরাফুল আলম ডাবলু (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) ইসমাইল হোসেন (স্বতন্ত্র) ও ইউনুস আলী (স্বতন্ত্র)। খট্টামাধবপাড়ায় নৌকা প্রতীকে মোখলেছার রহমান, ধানের শীষে আব্দুল মালেক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন রবিউল ইসলাম।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সবচেয়ে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে আলীহাট ইউনিয়নের মানুষ। এ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী গোলাম রসুল বাবু। তিনি আগেরবারও চেয়ারম্যান ছিলেন। তখন তাঁর বিরুদ্ধে ৯ জন ওয়ার্ড কমিশনার অনাস্থা দিয়েছিলেন। এবারও তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

তবে গোলাম রসুল বাবু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা ছড়াচ্ছে। ভোটারদের ভোটেই আমি নির্বাচিত হব। এখানে আওয়ামী লীগের ভোটের সংখ্যা বেশি, তাই নৌকাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। ’

ভোটাররা বলছেন, হাকিমপুর উপজেলা আগে থেকেই বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা। সুষ্ঠু ভোট হলে তিন ইউপির মধ্যে দুটিতে বিএনপি এবং একটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বোয়ালধার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাহাদত হোসেন সাদো গতবার চেয়ারম্যান থাকার সময় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের

কারণে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এখানে বিএনপির প্রার্থীর অবস্থা ভালো। স্থানীয় এমপি শিবলী সাদিক আওয়ামী লীগের হলেও ইউপি নির্বাচনে তাঁর কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। তা ছাড়া পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা জামিল হোসেন চলন্ত ও হিলি কাঁচামাল আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুনের পক্ষ থেকেও দলীয় প্রার্থীদের বিষয়ে সেভাবে কোনো তত্পরতা দেখা যাচ্ছে না। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা কিছুটা বেকায়দায় পড়েছেন। তিন ইউপির মধ্যে দুটিতেই জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী দেয়নি। এতে ওই দুই ইউপিতে জামায়াতের ভোট বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


মন্তব্য