kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


চট্টগ্রামে ওসির হামলায় ছাত্রলীগ নেতা আহত

জের ধরে থানায় হামলা, যানবাহন ও দোকানপাট ভাঙচুর, সড়কে ব্যারিকেড

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের এক নেতাকে ওসির মারধরের ঘটনার জের ধরে থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সড়কে এক ঘণ্টা ব্যারিকেড দিয়ে বেশ কয়েকটি যানবাহন ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে নগরের সদরঘাট থানায় এ ঘটনা ঘটে। ওই থানার ওসি মঈনুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্যের মারধরে আহত ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রহিম জিল্লুকে গত রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় গত কমিটির উপপরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রসংসদের বত্তৃদ্ধতা ও বিতর্ক সম্পাদক।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতারা ঘটনায় অভিযুক্ত ওসিসহ দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) মো. মঈনউদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় ছুটে যান। সন্ধ্যা ৭টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ঘটনাস্থলের আশপাশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছে। ঘটনার পর থেকে সদরঘাট থানার ওসি মঈনুল ইসলাম ভূঁইয়া গা ঢাকা দিয়েছেন। ওসি মঈনুল ইসলাম ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন ধরেননি।

আহত ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রহিম জিল্লু গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সদরঘাট আল-ইসলামিয়া হোটেলে গত শুক্রবার ঢাকা থেকে আমার বন্ধুসহ তাঁর পরিবারের চারজন সদস্য ওঠেন। তাঁরা চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আসেন। আজ (শনিবার) বিকেল ৩টার দিকে তাঁরা সাতকানিয়ায় চলে যাওয়ার পর ওই সময় আমার স্ত্রীসহ আমি হোটেলে ২০১ নম্বর রুমে বসে কথা বলছিলাম। এ সময় ম্যানেজার এসে আমাদেরকে রুম থেকে চলে যেতে বললে বের হওয়ার সময় ওসি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। ’ আব্দুর রহিম আরো বলেন, ‘আমার রুমে বাইরের লোক কেন—এমন চিত্কার-চেঁচামেচি করে তিনি ম্যানেজারকে মারধর শুরু করেন। এ সময় আমি গিয়ে প্রতিবাদ জানালে আমাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এ সময় আমার নাম ও পরিচয় বললে ওসি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন—ও তুই তো লতিফ সাহেবের বিরুদ্ধে মামলা করছিস। এ সময় আমি তাঁকে ভাই সম্বোধন করলে তিনি আমাকে বলেন, তুই স্যার না বলে আমাকে ভাই বলেছিস কেন? এ কথা বলেই আমাকে আবার পেটানো শুরু করেন। একপর্যায়ে ওসির নির্দেশে সদরঘাট থানা থেকে আরো কয়েকজন পুলিশ এসে আমাকে থানায় নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। আমার স্ত্রী সাদিয়া কায়েস রশ্মিকে ডিউটি অফিসারের রুমে বসিয়ে রাখে। ’

এ ঘটনার খবর পেয়ে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, সহসভাপতি আবদুল খালেক ও জয়নাল উদ্দিন জাহেদসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সদরঘাট থানায় যায়। এ সময় থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মো. নাজিরের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি থানা হেফাজত থেকে জিল্লুকে বের করে আনেন। ছাত্রলীগ নেতাদের মুচলেকা দিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বললে নেতারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে পরে জিল্লুকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতারা সদরঘাট থানা ও আশপাশের এলাকায় বেশ কিছু যানবাহন ও দোকানপাটে ভাঙচুর চালান। বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অভিযোগে আব্দুর রহিম জিল্লু সংসদ সদস্য এম এ লতিফের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন। তিনি ফিরিঙ্গিবাজারের বন্দর কলোনির অভয়মিত্র ঘাট রোডের আবুল কালাম আজাদের ছেলে। তাঁর স্ত্রী সাদিয়া কায়েস রশ্মি আলকরণ তিন নম্বর গলির আব্দুল কায়েসের মেয়ে। দুই বছর আগে বিয়ে হলেও এখনো ঘরে ওঠেননি। গতকাল মারধরের কারণে জিল্লু মুখমণ্ডলসহ নাক ও বাঁ চোখে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত।

সদরঘাট থানার উপপরিদর্শক বাবলা চৌধুরী বলেন, বিকেলে হোটেলে অভিযান চালিয়ে জিল্লু ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ। অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে তাঁদের আটক করা হলেও পরে পুলিশ জানতে পারে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী। তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে আসার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা ও ভাঙচুর করে। পরে তাদের জিম্মায় জিল্লু ও তাঁর স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য