kalerkantho

রবিবার। ২২ জানুয়ারি ২০১৭ । ৯ মাঘ ১৪২৩। ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮।


‘বেঈমানদের’ প্রতি বিষোদগার তৃণমূল নেতাদের

বিএনপির কাউন্সিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আন্দোলনের সময় ‘বেঈমানি’ করা এবং মোবাইল ফোন বন্ধ রাখা নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কাউন্সিলে আগত তৃণমূল নেতারা। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের দ্বিতীয় পর্বে সাংগঠনিক প্রতিবেদনের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জেলা ও উপজেলা থেকে আসা কাউন্সিলররা এ আহ্বান জানান।

বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রথমে দলের ও দেশের এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব আনা হয়। এরপরই সাংগঠনিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘আমরা শুধু মহাসচিব চাই না। এমন অভিভাবক হবেন যিনি ডাক দিলে তাতে সাড়া দিয়ে ইউনিয়ন থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী রাজপথে নেমে আসে। ’ তিনি বলেন, ‘বেঈমান, মীর জাফরকে নতুন কমিটিতে দেখতে চাই না। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বেঈমানি করেনি। যদি বেঈমানদের চিনতে চান, তাহলে আশপাশ আর পেছনে তাকালে দেখতে পারবেন। ’

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী থানা বিএনপির সভাপতি খান মনিরুল মনি বলেন, ‘কেন ২০১৪ সালের আন্দোলন বন্ধ করা হয়েছিল তা আমরা জানতে চাই। ’ তিনি বলেন, ‘দলে তিন শ্রেণির নেতা রয়েছেন। একগ্রুপ আছে যাঁরা টিভিতে ছবি উঠানোর জন্য ব্যস্ত থাকেন। অন্যগ্রুপে আছেন মুখোশধারীরা। তাঁরা বড় বড় পদ নিয়ে বসে আছেন। ফোন করলে তাঁদের পাওয়া যায় না। এমনকি বাসাও পাল্টে ফেলেন যাতে না পাওয়া যায়। ’

আন্দোলনে ব্যর্থতার কারণগুলো সাংগঠনিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা উচিত ছিল বলে দাবি করে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ বলেন, ‘জাতীয় নির্বাহী কমিটির আকার কমানো উচিত। অনেক বড় কমিটি কিন্তু কাজের নামে লবডঙ্কা। ’

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তৈমুর রহমান আগামী কাউন্সিল তিন দিন ধরে করার দাবি জানান। তিনিও ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর আন্দোলন বন্ধ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে ভারমুক্ত করার দাবি করেন।

খালেদা জিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাঙামাটি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, ‘বিগত দিনে ওয়ানডে খেলেছি। আপনি খেলোয়াড় নির্বাচন করেছিলেন। আমরা ওয়ানডে, টেস্ট খেলেছি। মাসের পর মাস অবরোধ করেছি, কিন্তু জিততে পারিনি। আমরা জানতে চাই, আপনার খেলোয়াড়রা কি ম্যাচ ফিক্সিং করেছিল?’

সাবেক এমপি বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, ‘বরিশালসহ সারা দেশের চিত্র আপনি চোখ বন্ধ করলে দেখতে পারবেন কারা আন্দোলনে ছিল। ’

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবীর খান বলেন, ‘২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকায় মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচি কেন হলো না, তার জবাব চাই। অতীতের সব আন্দোলনে কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে থাকেননি। নেতাদের পাসপোর্ট চেক করা উচিত। ওই সময় কে কোথায় ছিলেন, তার জবাবদিহিতা নেওয়া উচিত। ’

নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, ‘৫ জানুয়ারির আন্দোলনের সময় নেতারা কে কোথায় ছিলেন, তা চিহ্নিত করা হোক। আমার জানামতে, অনেকেই মোবাইল বন্ধ করে রেখেছিলেন। তাঁদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ’

নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসির কর্মসূচিতে রাজধানীতে নেতাকর্মীরা রাজপথে ছিল না। অনেক নেতা মোবাইল বন্ধ করে রেখেছিলেন। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী ঢাকায় এসে নেতাদের পায়নি। ওই দিন রাজপথে নামলে সরকারের পতন হতো। ’

প্রথম আলোচক হিসেবে দলের স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক ও নাটোর জেলা বিএনপির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, ‘ম্যাডাম, যারা বিগত দিনে বেঈমানি করেছে, আপনি নির্দেশ দিলে ১৫ দিনের মধ্যে সরকার পতন ঘটাবে বলে আশ্বাস দিয়ে মোবাইল বন্ধ করে রেখেছিল তাদের চিহ্নিত করতে হবে। আপনার নির্দেশে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে এসেছিল। ’

যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘সবাই এখানে পদপদবি নিয়ে কথা বলছেন। মনে রাখতে হবে, আমরা বিএনপি না করলে ১০ হাজার টাকার চাকরি পাব কি না সন্দেহ আছে। পদপদবির কথা চিন্তা না করে সবাইকে শহীদ জিয়ার আদর্শকে লালন করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে কাজ করে যাওয়া উচিত। ’

জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি মোজাহার আলী প্রধান বলেন, ‘দলে দালাল বের হয়েছে। ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এসব দালালরা নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করছে। ’

সিলেট সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ জানান, কেন্দ্র থেকে জেলা-উপজেলা কমিটি চাপিয়ে দেওয়া হয়। এ কারণে এলাকায় নানা সমালোচনা হয়। সব জেলায় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটি হতে হবে।

দিনাজপুরের সিতারপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত আন্দোলন তৃণমূলকে না জানিয়ে হঠাৎ করেই কেন থামিয়ে দেওয়া হলো আজও আমরা জানি না। আমার মনে হয়, ওই আন্দোলন আরো সপ্তাহখানেক চললে সরকার পতন হতো। ’


মন্তব্য