kalerkantho


উৎকণ্ঠায় জোহার পরিবার

রহস্যজনক কারণে জিডি হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে মেধাবী সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহার পরিবার। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে গতকাল শনিবার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে তা করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে জোহার পরিবার কিছু বলতে রাজি হচ্ছে না। অন্যদিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, জোহার ব্যাপারে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে তাঁর পরিবার চাইলে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে পুলিশ।

জোহার শ্যালক মাহমুদ হাসান চৌধুরী গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ভগ্নিপতির কী হয়েছে বুঝতে পারছি না। যেকোনো মূল্য দ্রুত সুস্থ অবস্থায় তাঁকে ফেরত চাই। ঘটনার পর তিন দিন থানায় ঘুরেও পুলিশের সহায়তা না পেয়ে আমরা হতাশ। তবে শনিবার ভাসানটেক থানায় জিডি করার কথা ছিল। তাও পারলাম না। ’ এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি।

এদিকে একমাত্র ছেলের খোঁজ না পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জোহার মা। স্বামীর চিন্তায় ভেঙে পড়েছেন ডা. কামরুন নাহারও। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী যদি কোনো অপরাধ করে থাকে তাহলে প্রচলিত আইনে বিচার করা হোক। তিনি তো কোনো অন্যায় করেননি। তাঁকে লুকিয়ে রেখে পরিবারকে কেন হয়রানি করা হচ্ছে? বিপদের সময় কারো সহায়তা পাচ্ছি না। ’

ভাসানটেক থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, জোহার নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে কোনো জিডি হয়নি। পরিবার জিডি করলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

এদিকে মিরপুরে গতকাল এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, পুলিশ জোহার পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত।

গত ১৬ মার্চ রাতে কচুক্ষেত এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে জোহা ও তাঁর বন্ধু ইয়ামিরকে আলাদা গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে ইয়ামিরকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও জোহার খোঁজ মেলেনি এখনো। এ বিষয়ে সহায়তা চাইতে স্বজনরা রাজধানীর তিনটি থানায় গেলে ঘটনাস্থল তাদের এলাকায় নয় বলে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ।

তানভির হাসান জোহা তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইনসাইড বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান। এর আগে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সাইবার নিরাপত্তা কর্মসূচির ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা ছিলেন। সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির তদন্তে একটি সংস্থাকে সহায়তা করছিলেন তিনি।


মন্তব্য