kalerkantho


সুদানে নিয়ে অপহরণ বাণিজ্য

সাত মানবপাচারকারী র‌্যাবের হাতে আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘আব্বা তুমি ভিক্ষা কইরা হইলেও টাকা ফাডাও। নাইলে ওরা আমারে মাইরা ফালাইব।

আমারে মেডিক্যালে নিয়া আমার কিডনি বিক্রি কইরা দিব কইছে। ’ রাজধানীর র‌্যাব-৩ কার্যালয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন শেষে সুদান থেকে লিবিয়ায় পাচার হওয়া সমর আলীর (২২) বাবা কনু মিয়া (৫৫) সাংবাদিককে এসব কথা বলেন। কান্না করতে করতে সুনামগঞ্জের দরিদ্র কৃষক কনু মিয়া বলেন, ‘দুই কানি জমি দেড় লাখ টাকা, বিয়াইয়ের দেওয়া গরু সাড়ে ১৭ হাজার টাকা বিক্রি কইরা দিছি। একজনের কাছ থিকা এক লাখ টাকা ধার নিছি মাসে ২০ টাকা হার সুদে। পোলারে বাঁচাইতে সব বিক্রি কইরা দিছি। ’

মানবপাচারকারী এ চক্রকে পাঁচ লাখ টাকার মতো ছেলের জন্য মুক্তিপণ দিয়েছেন কনু মিয়া। এত টাকা দেওয়ার পরও ছেলেকে ফিরে না পেয়ে এবং সুনামগঞ্জের কোম্পানীগঞ্জ থানা সাহায্য না করায় ঢাকায় র‌্যাব-৩-এর কাছে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ অভিযান চালিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা হলেন আব্দুল কাইয়ুম (৪৪), খোকন আহম্মেদ আজগর ওরফে আলী (৩০), জাহাঙ্গীর আলম (৩০), নাসির উদ্দিন (৪০), ফারুকুল ইসলাম রাসেল (৩১), রুবেল হাওলাদার (২৯) ও বাদল হাওলাদার (৩৫)।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার গোলাম সারোয়ার বলেন, এই চক্রটি কনু মিয়াকে জানায়, সাড়ে চার লাখ টাকা দিলে তাঁর ছেলে সমরকে বিদেশে পাঠানো যাবে। সেই চুক্তি অনুযায়ী বিমানবন্দরে একটি হোটেলে কাইয়ুমকে দুই লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন কনু মিয়া। বাকি দুই লাখ টাকা বিদেশে যাওয়ার পর দিলেও হবে বলে চক্রটি জানায়। কিন্তু সুদানে যাওয়ার পর সমরকে জিম্মি করে কনু মিয়ার কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় চক্রটি হুমকির কারণে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে মোট পাঁচ লাখ টাকা দেন কনু মিয়া। পরে র‌্যাবে অভিযোগ দেওয়া হলে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান এবং ভাণ্ডারিয়া ও পিরোজপুর থেকে ওই সাতজনকে ধরা হয়। সুদানে অবস্থানকারী শাহীন, দেলোয়ার, অলিল, সোহাগ, জহির ও লিটন নামে কয়েকজন এ চক্রের সদস্য। তারা লোকজনকে ধরে রেখে মুক্তিপণ আদায়ে সহায়তা করত। তারপর সেখান থেকে লিবিয়ায় পাচার করে দিত। তবে লিবিয়ায় পাচারের সময় অনেকে মারাও যেত। তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়ার বেনগাজী থেকে সমরকে উদ্ধার করা হয়। তবে লিবিয়ায় এ চক্রের সদস্য ইসমাইল ওরফে রাসেল, রায়হান ওরফে সবুজ, রাকিব ও অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে ভিকটিম সমরকে লিবিয়ার ত্রিপলীতে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়ে আসা হয়। তাদের বাকি সহায়তাকারীদের ধরার চেষ্টা চলছে।


মন্তব্য