kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


কথা-সুরে দেবব্রত বিশ্বাসকে স্মরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কথা-সুরে দেবব্রত বিশ্বাসকে স্মরণ

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে গতকাল দেবব্রত বিশ্বাসের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক বক্তৃতা ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে নলেজ ট্রাস্টি। ছবি : কালের কণ্ঠ

রবীন্দ্রসংগীতের এক পরম শ্রদ্ধেয় শিল্পী দেবব্রত বিশ্বাস। আজীবন সংগ্রামী এ মানুষটি দুরারোগ্য ব্যাধির সঙ্গে লড়েছেন দীর্ঘ সময়। কিন্তু সেটা গৌণ। মুখ্য হলো প্রাতিষ্ঠানিক অচলায়তনের বিরুদ্ধে তাঁর জীবনভর সংগ্রাম। তাঁর একাগ্রতা ও সংগ্রামের ফলে রবীন্দ্রসংগীত ও গণসংগীত পেয়েছে বিপুল মানুষের গ্রহণযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা।

বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী দেবব্রত বিশ্বাস স্মরণে তাঁর সম্পর্কে এসব কথা বলেন আলোচকরা। কিংবদন্তি এ শিল্পীর জন্ম রবিশালে। পৈতৃক নিবাস ছিল কিশোরগঞ্জে। দেশের এই কৃতিসন্তান স্মরণে গতকাল শনিবার স্মারক বক্তৃতা ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে নলেজ ট্রাস্ট। বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি ছিল ছিমছাম, গোছানো। নির্দিষ্ট সময়েই শুরু হয় আয়োজন। শুরুতে দেখানো হয় এই বরেণ্য শিল্পীকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র। এরপর হয় আলোচনা ও সংগীতানুষ্ঠান।

‘আমি যে গান গেয়েছিলাম’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নলেজ ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন দেবব্রত বিশ্বাস স্মরণ কমিটির সচিব বরুণ কান্তি চট্টোপাধ্যায়। কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের সভাপতিত্বে এতে স্মারক বক্তব্য দেন গোলাম মুরশিদ। তিনি বলেন, শুধু রবীন্দ্রসংগীত নয়, বাংলা গানেই দেবব্রত বিশ্বাসের অবদান অতুলনীয়। গণসংগীতকে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি বহু অপ্রচলিত রবীন্দ্রসংগীত পুনরুদ্ধারসহ অসংখ্য রবীন্দ্রসংগীতে প্রাণসঞ্চার করেছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আজিজুল হক বলেন, দেবব্রত বিশ্বাসের গাওয়া রবীন্দ্রসংগীত অনন্য, যা আমাদের অন্তরে এক নতুন সজীবতা ও প্রাণচাঞ্চল্য এনে দেয়।

প্রত্মতাত্ত্বিক যাকারিয়া ছিলেন জীবন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া

ঢাবির সিনেট ভবনের আঙিনায় বসেছিল দেশের প্রত্নতত্ত্ববিদ আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার কর্মময় জীবনের আলোকচিত্র আর গ্রন্থের প্রদর্শনী। প্রতিটি বই ও আলোকচিত্র গভীর মনোযোগের সঙ্গে দেখছিলেন অনুষ্ঠানে আগতরা। আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার কাজের প্রশংসা ও তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে যখন ভক্ত-অনুরাগীরা নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতায় মগ্ন, এমন সময় মিলনায়তনের ভেতরে বাঁশিওয়ালার করুণ সুরের সঙ্গে শিল্পীর আবেগী কণ্ঠের সংমিশ্রণ পরিবেশকে গুমোট করে তোলে। আর মুহূর্তেই বাইরে থাকা লোকজন মিলনায়তনের ভেতরের পরিবেশের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এমনটাই ছিল সদ্যপ্রয়াত প্রত্নতত্ত্ববিদ আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে।

কথামালা, গান, আলোকচিত্র ও গ্রন্থের প্রদর্শনী দিয়ে সাজানো হয় এই স্মরণানুষ্ঠান। ঢাকার স্থাপত্যবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বরেণ্য এই প্রত্নতত্ত্ববিদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় স্মরণানুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’ ও ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ পরপর এ দুটি রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ইশরাত জাহান কাঁকন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে মোহাম্মদ যাকারিয়ার জীবন ও কর্মের ওপর স্মৃতিচারণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম খান, নাজমা খান মজলিশ, ঢাকার স্থাপত্যবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মাওলানা নুরুদ্দিন ফতেহপুরী, সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু, ফটো সাংবাদিক পাভেল রহমান, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসুদ, যাকারিয়াপুত্র মারুফ শমসের যাকারিয়া ও মেয়ে মাসুমা খাতুন।

বক্তারা বলেন, আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার মতো সৎ, নির্লোভ, সদালাপী, বিনয়ী ও পরোপকারী মানুষ এই সমাজে দ্বিতীয় আরেকজন খুঁজে পাওয়া দুরূহ। পরিণত বয়সে তিনি মৃত্যুর কাছে আত্মসমর্পণ করলেও তাঁর চলে যাওয়াতে ক্ষতি হয়েছে এ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের।


মন্তব্য