kalerkantho


মায়ের বিরুদ্ধে ছেলে, ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাই

নিজস্ব প্রতিবেদক ও বাগেরহাট প্রতিনিধি   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মায়ের বিরুদ্ধে ছেলে, ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাই

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে এখন বাগেরহাটের দুটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন। এর একটি কচুয়া উপজেলার রাঢ়ীপাড়া ইউনিয়ন। সেখানে চেয়ারম্যান পদে মায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন ছেলে। আলোচনার শীর্ষে থাকা আরেক ইউনিয়ন হলো মোরেলগঞ্জ উপজেলার খাউলিয়া। সেখানে এক ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন আরেক ভাই। ইউনিয়ন দুটিতেও বিরাজ করছে ব্যাপক উত্তেজনা। এমনকি নির্বাচন নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কাও করছে এলাকাবাসী।

দুটি এলাকায় উত্তেজনা থাকার কথা স্বীকার করেছেন বাগেরহাট সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর শওকাত আলী বাদশাও। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রার্থী যেই জিতবে সে আওয়ামী লীগের। তবে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে উত্তেজনা কিছুটা আছে। তাই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক আছে। ’

বাগেরহাট জেলা শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে বাগেরহাট-পিরোজপুর সড়কের পাশে রাঢ়ীপাড়া ইউনিয়ন। মেহেদি হাসানের বাবা আওয়ামী লীগ নেতা এস এম মাহফুজুর রহমান ১৯৯৮ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে রাঢ়ীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি এখন দ্বিতীয় মেয়াদে কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। মাহফুজুরের স্ত্রী তাছলিমা বেগম ২০১১ সালে রাঢ়ীপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এবার বাগেরহাটের আরো ৩২টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের মতো তাছলিমা বেগমও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার আশায় ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাদ সেধেছেন তাঁরই ছেলে মেহেদি হাসান বাবু।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রাঢ়ীপাড়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মা তাছলিমা বেগম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস মার্কা নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছেন তাছলিমার ছেলে মেহেদি হাসান বাবু।

মেহেদি হাসান বাবুর অভিযোগ, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে তাঁর বাবা এস এম মাহফুজুর রহমান বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এমনকি নিজের লোকজন দিয়ে তাঁর প্রচারে বাধা দিচ্ছেন।

অন্যদিকে মাহফুজুর রহমানের দাবি, তাঁর ছেলে বিএনপি-জামায়াতঘেঁষা। পরিবারের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মেহেদি এক বিএনপি নেত্রীর মেয়েকে বিয়ে করেছেন।

মোরেলগঞ্জ উপজেলার খাউলিয়া ইউপির দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মাস্টার আবুল খায়েরকে এবারও মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এতেই বিদ্রোহ করেন তাঁর বড় ভাই সিদ্দিকুর রহমান হাওলাদার। তিনি আনারস মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এর পর থেকে চলে হুমকি-ধমকি। সর্বশেষ গত ২ মার্চ একটি পুরনো মামলায় আসামি দেখিয়ে সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এখন তাঁর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা-নির্যাতন চালানো এবং ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একই অভিযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সেলিম মিয়াও। তিনি অভিযোগ করেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নৌকা মার্কার প্রচার চালানো হলও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিরোধী প্রার্থীদের নির্বাচনী অফিস ও বাড়ি-ঘরে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে।


মন্তব্য