kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


দল ছাপিয়ে ব্যক্তি ‘ফ্যাক্টর’

পার্থ সারথি দাস ও ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট থেকে   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দল ছাপিয়ে ব্যক্তি ‘ফ্যাক্টর’

কথায় বলে, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। ’ কিন্তু সিলেটে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেশির ভাগ ভোটারের কাছে ‘দলের চেয়ে ব্যক্তিই বড়’।

সরেজমিনে গেলে বিভিন্ন ইউনিয়নের ভোটার ও সাধারণ মানুষ জানিয়েছে, দল ও দলের প্রতীকের চেয়ে মুরব্বিদের নির্দেশনা, পঞ্চায়েতের মতামত, গোষ্ঠীগত সিদ্ধান্ত, আত্মীয়তার সম্পর্কই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে এ অঞ্চলে। আগেও এ পর্যায়ের নির্বাচনে ‘রাজনীতি’ বড় কোনো প্রভাব রাখতে পারেনি। স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে নিচের স্তরের এ নির্বাচনে এবারই প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি ভোটযুদ্ধে নেমেছে। তবে আঞ্চলিক প্রথার কারণে সিলেটে তৃণমূল নির্বাচন রাজনৈতিকীকরণের পরীক্ষা হবে সবচেয়ে কঠিন।

সিলেটে প্রথম পর্যায়ে ২২ মার্চ অনুষ্ঠেয় আটটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ৪৯০ জন প্রার্থী। নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ৪০ জন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনীত ১৬ চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাইরে রয়েছেন ছয়জন বিদ্রোহী প্রার্থী। আওয়ামী লীগের চার ও বিএনপির আছেন দুই বিদ্রোহী। এর বাইরে অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীও স্থানীয় রীতির কারণে বৈতরণী উতরে যাওয়ার আশা করছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী গতকাল শনিবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে ভোটাররা ব্যক্তি পরিচয়কেই প্রাধান্য দেবেন। ’ 

দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে দিনরাত ব্যাপক প্রচারণায় ব্যস্ত সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ। তিনি গতকাল বিকেলে ছালিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। দলের চেয়ে ব্যক্তি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও স্থানীয় রীতি-রেওয়াজ এ নির্বাচনে কতটা প্রভাব রাখবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে এখানে ব্যক্তি ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক বড় প্রভাব রাখবে। দলীয় নির্দেশনা অনুসারে আমরা কাজ করছি। ’

সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে সব মিলিয়ে প্রার্থী ৮৬ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী আটজন। তবে এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আফসার আহমদ। আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বেলাল ও বিএনপির প্রার্থী ফারুক আহমদের ওপর দলীয় আশীর্বাদ আছে, সমর্থনও আছে। এর পরও আফসার এখানে তাঁদের কাছে ‘বড় ফ্যাক্টর’।

জালালাবাদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রার্থী ৫১ জন। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী পাঁচজন। স্থানীয় লোকজন বলছে, তাদের মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইসলাম উদ্দিন ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনফর আলীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তীব্র। আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আশরাফ আলীর পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের তত্পরতা থাকলেও তা তেমন প্রভাব ফেলবে কি না এ নিয়ে সংশয় রয়েছে। স্থানীয় ভোটার রমজান আলী বলেন, ইউনিয়নের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দলীয় নেতাকর্মীরা প্রচারে নেমেছে। এর পরও প্রতীক বা দল প্রভাব ফেলবে না।

হাটখোলা ইউনিয়নে মোট প্রার্থী ৫৮ জন। চেয়ারম্যান পদে লড়বেন সাতজন। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী খুরশিদ আহমদ, বিএনপির প্রার্থী আজির উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাস্টার মো. শামসুদ্দিনের মধ্যে মূল লড়াই হবে। স্থানীয় ভোটার আফজল মিয়া বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাস্টার মো. শামসুদ্দিনের পক্ষে কোনো দল বা প্রতীকের সুবিধা নেই। এর পরও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি থাকবেন। খাদিমনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রার্থীর তিনজনই নামবেন মূল লড়াইয়ে। ত্রিমুখী লড়াই হবে বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলোয়ার হোসেন, বিএনপির প্রার্থী ইলিয়াস আলী ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী তারা মিয়ার মধ্যে।

টুলটিকর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী চারজন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এস এম আলী হোসেন ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত আবদুল মছব্বির ও বিএনপির কাজী মুহিবুর রহমান উভয়েই তাঁকে হিসাবে রাখছেন। দখলবাজ, দুর্নীতিবাজদের ভোটাররা ভোট দেবেন না। টুকেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে মোট প্রার্থী ৬২ জন। চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দুজন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলতাফ হোসেন ও বিএনপির শহীদ আহমদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। অন্যান্য ইউনিয়নে বিদ্রোহীদের দাপট থাকলেও এখানে তা নেই। মোগলগাঁও ইউনিয়নে ৫৬ জন প্রার্থী প্রচারণা চালাচ্ছেন। চেয়ারম্যান পদে মোট প্রার্থী চারজন। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিরণ মিয়া ও বিদ্রোহী প্রার্থী শামসুল ইসলাম টুনুর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে স্থানীয় লোকজন মনে করছে।

কান্দিগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী পাঁচজন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে বিএনপির প্রার্থী আহমদ আলী ও স্বতন্ত্র আবদুল মনাফ লড়বেন। মনাফ বিদ্রোহী প্রার্থী।


মন্তব্য