kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


রিজার্ভ চুরির ঘটনায় নীরব জাপা

মোশতাক আহমদ   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির ঘটনা বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বক্তব্য রেখেছেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বড় নেতারা। বিএনপিও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছে, গভর্নর ও অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়েছে। কিন্তু সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতারা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কোনো কথাই নেই কোনো নেতার। হঠাৎ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সরকারের সমালোচনা করলেও এ বিষয়ে মুখ খোলেননি এখনো। আর সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার পদে থাকা রওশন এরশাদ এত দিন নিশ্চুপ থেকে চলে গেলেন জাম্বিয়ায়। ২৩ মার্চ তাঁর দেশে ফেরার কথা।

রিজার্ভ চুরির ঘটনা নিয়ে সরকারের মন্ত্রী ও প্রভাবশালীরাও নানামুখী বক্তব্য দিচ্ছেন। ড. আতিউর রহমান ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পক্ষে-বিপক্ষে বিভক্ত হয়ে কেউ কেউ বক্তব্য রাখছেন। এ অবস্থায় জাতীয় পার্টি কোন দিকে বক্তব্য দিয়ে কোন অবস্থায় পড়বে, তা বুঝতে না পারার কারণেই বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ খুলছেন না বলে জানা গেছে। রিজার্ভ চুরির ঘটনা নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অবস্থান জাতীয় পার্টির কাছে স্পষ্ট হলে, তখন হয়তো কিছু বলবেন তাঁরা। তা ছাড়া দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অবস্থানই যেখানে স্পষ্ট নয়, সেখানে কে কোন কথা বলে বেকায়দায় পড়বে—এই ভয়ে রিজার্ভ চুরির বিষয়ে মুখ খুলছেন না কেউই।

রিজার্ভ চুরির ঘটনা নিয়ে জাতীয় পার্টির এমন নীরবতার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে দলটির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশে তো অনেক ঘটনাই ঘটে। সব কিছুরই কি প্রতিবাদ করতে হয়। ’ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সরব উপস্থিতি আছে জানিয়ে হাওলাদার বলেন, ‘দেখি সামনে হয়তো আমরা এ বিষয়ে কিছু একটা বলব। তবে আমরা আশা করি, সরকার এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দেবে। ’

জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি আসলে দলের মুখপাত্র নই। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। ’ তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যেই আর্থিক ঘটনাটি ঘটল, তাতে দলের পক্ষ থেকে নিশ্চয়ই কিছু বলা যেত। কিন্তু কেন বলা হলো না, তা আমি জানি না। ’


মন্তব্য