kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


আইএসের ভিডিওতে উদ্বুদ্ধ হয়েই হত্যা

সাইফুল আলম বাবু, পঞ্চগড়   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আইএসের ভিডিওতে উদ্বুদ্ধ হয়েই হত্যা

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের ভিডিও দেখিয়ে জেএমবি সদ্যদের পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর রায় (৫০) হত্যাকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিল। নির্ধারিত ছক (তালিকা) অনুযায়ী এ কাজ করা হয়েছিল বলে আটক জেএমবি সদস্যদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তথ্য মিলেছে। এ ঘটনার হোতা হিসেবে রাহুল ওরফে রবি নামে জেএমবির সামরিক শাখার এক নেতার নাম উঠে এসেছে, যাকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

২১ ফেব্রুয়ারি সকালে দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরে সন্তগৌড়ীয় মঠে গিয়ে দুর্বৃত্তরা পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর রায়কে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। এ ঘটনায় হত্যা এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে আলাদা দুটি মামলা হয়।

এ দুই মামলায় দুই দফায় পুলিশ জেএমবি সদস্য আলমগীর হোসেন, হারেছ আলী, রমজান আলী, খলিলুর রহমান ওরফে খলিল, জাহাঙ্গীর হোসেন, বাবুল হোসেন ও আবদুল মোমিনকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহূত রক্তমাখা চাপাতি, দুটি পিস্তলসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালত এই সাত আসামিকে কারাগারে পাঠান। পরে রমজানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দিনাজপুরের পুলিশ কাহারোলের যাত্রামঞ্চে হামলা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। এদের মধ্যে জেএমবি সদস্য আলমগীর হোসেন গত ১ মার্চ, হারেছ আলী ৬ মার্চ ও রমজান আলী ১৪ মার্চ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মার্জিয়া খাতুনের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

জবানবন্দিতে তারা জেএমবি সদস্য নজরুল ও খলিলের মাধ্যমে মুদি দোকানি আলমগীর, প্রতিবেশী মামা ছাত্তারের পরিচিত রাহুল ও শাহাদতের মাধ্যমে মাদ্রাসা ছাত্র রমজান ও তার প্রতিবেশী মামা সাত্তারের মাধ্যমে ভ্যানচালক হারেছ জেএমবিতে যোগ দিয়েছে বলে জানায়। তারা রাহুলকে জেএমবির বিভক্ত নতুন দলের আমির ও সামরিক পদের লোক এবং শাহাদতকে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত এহসার বা মোহাজের বলে উল্লেখ করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমজানের জবানবন্দিতে আসা প্রতিবেশী মামা আবদুস সাত্তারের বাড়ি তাদের বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে একই ইউনিয়নের (দণ্ডপাল) মৌমারী গ্রামে। সত্তরোর্ধ্ব এই ব্যক্তি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আলমগীরের জবানবন্দিতে উল্লেখ করা নজরুল রমজানের চাচাতো ভাই। তার বাড়ি সোনাহার ইউনিয়নের গছপুরি গ্রামে। রানার বাড়ি দেবীডুবা ইউনিয়নের নাজিরটারি গ্রামে। খলিলুর রহমানের বাড়ি চিলাহাটি ইউনিয়নের প্রধানপাড়া গ্রামে। সে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা মামলা থেকে খালাস পায়।

রমজান ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে না থেকে রাহুলের কথায় ‘বাড়ির কাছাকাছি রাস্তায়’ ছিল বলে জবানবন্দিতে দাবি করেছে। আলমগীর তার জবানবন্দিতে ‘নজরুলের কথায় জানতে পারি’ উল্লেখ করে বলেছে, ‘নজরুল বাইক ড্রাইভ করবে, রাহুল পুরোহিতকে জবাই করবে এবং রমজান বা কালো পোশাক পরা ছেলেটির মধ্যে যে কেউ একজন গুলি করবে। ’ রমজান নীলফামারীর ডোমার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষের ছাত্র। পঞ্চম শ্রেণি থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ছাত্রশিবির করত। সে জবানবন্দিতে স্বীকার করেছে, নির্ধারিত ছক অনুযায়ী পুরোহিতকে হত্যা করা হয়েছে। তবে, ছকে আর কার নাম ছিল সে বিষয়ে কিছু বলেনি। রমজান বলেছে, ঘটনার আগের দিন বিকেলে সে রাহুলের ডাকে ডিসি পার্কে যায়। সেখানে রাহুল বলে ‘দুই-তিন দিনের মধ্যে কাজ হতে পারে। ছক অনুযায়ী কাজ হবে। ’ ছক আগেই রাহুল আমাকে দিয়েছিল। রাহুল বলেছিল, ‘ছকের (তালিকার) লোকগুলো ইসলাম প্রচারে বাধা। এদের হত্যা করে ইসলাম কায়েম করতে হবে। ’


মন্তব্য