kalerkantho


মণিরামপুরে আ. লীগ নেতা নিহত, ছয় জেলায় আহত ৩৪

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হামলায় যশোরের মণিরামপুরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া শেরপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও গাজীপুরে সহিংসতায় আহত হয়েছে অন্তত ৩৪ জন।

গত বুধবার রাতে মণিরামপুরের চালুয়াহাটী ইউনিয়নে বোমা হামলায় আহত আওয়ামী লীগ নেতা মুনছুর আলী গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি দলটির ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সহসভাপতি ছিলেন। এ নিয়ে নির্বাচনী সহিংসতায় আটজন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনই মারা গেছে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায়।

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত অন্য ছয়টি জেলায় হামলা, ভাঙচুর, বোমাবাজি

ও গুলিবিনিময়ের মতো সহিংসতা হয়েছে। এসব সহিংসতার বেশির ভাগই হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

মণিরামপুর (যশোর) : গত বুধবার রাতে উপজেলার চালুয়াহাটী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে একই দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আব্দুল হামিদের কর্মী-সমর্থকরা হামলা চালায়। তারা কার্যালয়ের আসবাব, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর করে। এ সময় বোমাও মারা হয়।

এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল ইসলামসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। আহতদের যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে তাদের মধ্যে মারাত্মক আহত মুনছুর আলীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি লক্ষ্মণপুর গ্রামের উকিল আহম্মেদের ছেলে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমানসহ ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শেরপুর : গতকাল সকালে নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আমানউল্লাহ বাদশা ও স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হওয়া দলের ‘বিদ্রোহী’ খোরশেদ আলম খোকার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে। এ সময় স্থানীয় বৈশাখী বাজার ও চায়না মোড়ে অবস্থিত দুই প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ই ভাঙচুর করা হয়। এর আগে দুই পক্ষই ইউনিয়নের মায়াঘাসি এলাকায় একই সময়ে পথসভা আহ্বান করায় উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রশাসন সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে।

ঝালকাঠি : বৃহস্পতিবার রাতে কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আখতার হোসেন নিজাম মীরবহরের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আমিরুল ইসলাম ফোরকানের কর্মীরা। এ সময় হামলাকারীরা সাতজনকে মারধর করে। একই রাতে নলছিটির সুবিদপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আমির সোহেল মল্লিকের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুল মান্নান সিকদারের কর্মীরা। হামলাকারীরা পিটিয়ে তিনজনকে আহত করে। কুশঙ্গল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মতিউর রহমান সরদারের প্রচার মাইক ভাঙচুর করেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলমগীর হোসেনের কর্মীরা। এ ছাড়া সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আবদুর রহিমের একটি নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবদুস শুক্কুর মোল্লার কর্মীরা। এসব ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাননি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট থানার ওসি।

বরগুনা : বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেতাগী উপজেলার বেতাগী, ঢলুয়া ও বামনা উপজেলার বামনা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা স্বতন্ত্র ও বিএনপির প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এর মধ্যে ঢলুয়া ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী আবু হেনা মোস্তফা কামাল টিটুর ছোট ভাই লিটন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। তাদের কাছে ৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেটও পাওয়া গেছে। বামনা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সভাস্থলে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। অন্যদিকে এই ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর অভিযোগ, রাতে আওয়ামী লীগের কর্মীরা খোলপটুয়া বাজারে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছে। ডৌয়াতলা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অভিযোগ, স্থানীয় বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীরা তাঁদের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করেছে। শুক্রবার দুপুরে বেতাগী ইউনিয়নের আরেকটি ওয়ার্ডে নৌকা প্রতীকের বহিরাগত সমর্থকরা হামলা চালায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর কর্মীদের ওপর। এ সময় তাদের হামলায় একজন আহত হয়েছে।

পিরোজপুর : ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ী ও ধাওয়া ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার রাতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় জেপি প্রার্থীর একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় জেপির ১০ কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছে। এর মধ্যে ইকড়ী ইউনিয়নে হামলার সময় গুলি ছুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করা হয়। এতে আহত হয়েছে পাঁচজন। অন্যদিকে ধাওয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মীদের হামলায় জেপির চেয়ারম্যান প্রার্থীর পাঁচ কর্মী আহত হয়েছে। এ সময় একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

পটুয়াখালী : বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. মিজানুর রহমানের ওপর হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন। এ সময় ওই প্রার্থীসহ আরো চারজন আহত হয়।

গাজীপুর : কালীগঞ্জ উপজেলায় বাহাদুরসাদী ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর কর্মীদের মারধর ও পোস্টার লাগাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাতের এ ঘটনায় দুই যুবদল নেতাসহ পাঁচজন আহত হয়েছে। এ ব্যাপারে বিএনপি প্রার্থী জয়নাল আবেদীন গতকাল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু ওসি তা গ্রহণ না করে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করতে বলেন।


মন্তব্য