kalerkantho


বাহারি অগ্নিসাগর

দেবদাস মজুমদার, আঞ্চলিক প্রতিনিধি   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাহারি অগ্নিসাগর

সাগর কলা, সবরি কলা, কাঁঠালি কলা, চিনিচাঁপা কলা, আনাজ কলা, বিচি কলা, অগ্নিসাগর—এ রকম নানা জাতের কলা ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এর মধ্যে আনাজ কলা কেবলই সবজি হিসেবে উপাদেয়। অন্য সব কলার মধ্যে একেবারেই আলাদা করে চেনা যায় অগ্নিসাগরকে। বাহারি এই কলা আগুন রঙে বর্ণিল।

অঞ্চলভেদে কলার পরিকল্পিত বাণিজ্যিক আবাদ রয়েছে। তবে অগ্নিসাগর কলার বাণিজ্যিক আবাদ তেমন একটা চোখে পড়ে না। অথচ দৃষ্টিনন্দন এই কলা দেখলেই হাত বাড়াতে ইচ্ছা জাগে। জাগ্রত হয় রসনা।

অগ্নিসাগর কলা এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশে জন্মে। রঙের কারণে অগ্নিসাগর রেড ব্যানানা বা লাল কলা নামেও পরিচিত। এর খোসার রং হলুদাভ কমলা, গাঢ় কমলা, লাল ও লালচে বেগুনি হয়ে থাকে। ভেতরটা প্রচলিত জাতের কলার মতোই হালকা ঘিয়ে রঙের। তবে কখনো কখনো গোলাপি আভাও থাকে। এই জাতের কলায় ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি-এর পরিমাণ বেশি থাকে। সে সুবাদে নানা রোগের বনাজি ওষুধ তৈরিতেও এর ব্যবহার আছে। নানা গুণের কারণে এর চাহিদাও অন্যান্য কলার চেয়ে বেশি।

উপকূলীয় পিরোজপুর ও বরগুনা অঞ্চলে কান্দি ও বেড় পদ্ধতিতে নানা জাতের কলার আবাদ হয়ে থাকে। এর মধ্যে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, কাউখালী, জিয়ানগর ও ভাণ্ডারিয়া এবং বরগুনার আমতলী, বামনা ও বেতাগীতে কলা চাষের বাণিজ্যিক প্রসারতা আছে। এসব অঞ্চলে সব ধরনের কলার চাষ হয়ে থাকে। ব্যতিক্রম কেবল অগ্নিসাগর। ফলে এই কলা সহজলভ্য নয়।

দাম ও চাহিদা বেশি থাকায় এখন অগ্নিসাগর কলার বাণিজ্যিক চাষের দিকে ঝুঁকছে চাষিরা। ইতিমধ্যে কাউখালীতে বাণিজ্যিকভাবে অগ্নিসাগর কলার আবাদ শুরু হয়েছে। আর শুরুতেই এই জনপদের অর্থকরী ফসলের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে এটি।

স্থানীয় কৃষক ও কাউখালী কৃষি দপ্তর সূত্র জানায়, বছর দশেক আগে কাউখালী উপজেলায় হাতে গোনা দু-তিনটি অগ্নিসাগর কলার ক্ষেত চোখে পড়ত। সমপ্রতি স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের লোকায়ত কৃষিজ্ঞান ও কৌশল কাজে লাগিয়ে অগ্নিসাগর কলার আবাদ সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে। স্থানীয় চাষিদের দেখে বেকার যুবকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছে অগ্নিসাগর জাতের কলা চাষে। প্রতি একর জমিতে ৮০০ থেকে এক হাজার চারা রোপণ করা যায়। ১১ থেকে ১২ মাসেই রোপণ করা গাছ থেকে কলা পাওয়া যায়। সে সুবাদে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে কাউখালীর অগ্নিসাগর।

কাউখালীর শিয়ালকাঠি গ্রামের কলাচাষি আবদুল হক জানান, কলা বিক্রির জন্য তাঁদের দূরে কোথাও যেতে হয় না। বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে বাগান থেকেই পরিপক্ব কলা কিনে নিয়ে যায়। প্রতি হালি (চারটি) অগ্নিসাগর কলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা তা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করে থাকে। এ কারণে এ কলায় কৃষকের লাভ বেশি।

কাউখালী উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ কর্মকর্তা অপূর্ব লাল সরকার জানান, এখানকার মাটি কলা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। অন্যান্য জাতের কলার পাশাপাশি এ বছর কাউখালীর শিয়ালকাঠি, বিড়ালজুরি, জোলাগাতী ও চিরপাড়ায় অগ্নিসাগর কলার চাষ হয়েছে। লাভের অঙ্ক বেশি ও ফলন ভালো হওয়ায় অগ্নিসাগর জাতের কলা এখানে অর্থকরী কৃষিজ পণ্য হিসেবেও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।


মন্তব্য