kalerkantho


বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইমদাদুল হক মিলন

‘বই আলোর কারখানা’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘বই আলোর কারখানা’

বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন বলেছেন, ‘একেকটি ভালো বই, একেকটি আলোর কারখানা। আমাদের সন্তানদের আলোকিত মানুষ, বঙ্গবন্ধুর সোনার বংলা গড়ার কারিগর ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে; প্রত্যেক শিশুর হাতে বই তুলে দিতে হবে এবং বইয়ের সঙ্গে পরিচয় ঘটাতে হবে। ’

গতকাল শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে ৯ দিনব্যাপী বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইমদাদুল হক মিলন এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭তম জন্মদিন ও শিশু দিবস উপলক্ষে ষষ্ঠবারের মতো মেলার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি। আর পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড। আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা ও ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় অংশ নেওয়া ৫০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে শিশুতোষ বইয়ের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ও অন্যান্য বইও পাওয়া যাচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিশু একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখ্ত, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ওসমান গনি, শিশু একাডেমি বইমেলা উদ্যাপন কমিটির সদস্যসচিব ও গ্রন্থাগারিক রেজিনা আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়তে শিশুদের দক্ষ করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘একদিন যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই স্বপ্নের কিছুটা এখনো বাকি রয়ে গেছে। সেই স্বপ্নের কাছে পৌঁছাতে শিশুদের দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য শিশুদের হাতে বই তুলে দিতে হবে। ’

উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে এ ধরনের মেলার আয়োজন অনেক বড় পদক্ষেপ। আজকের শিশুরাই জ্ঞান-বিজ্ঞানের সঙ্গে জড়িয়ে নিজেদের আলোকিত করবে। বইয়ের সঙ্গে সব সময় সম্পৃক্ত থাকতে হবে।

বইমেলায় প্রতিদিনই শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধের গল্প, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্যনাট্য, নৃত্য-সংগীত, পাপেট শো, ত্রিমাত্রিক শো ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন রয়েছে। রয়েছে সেলফি কর্নারও। শহীদ মতিউর মুক্তমঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন দেশের বরেণ্য কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ ছাড়া মেলা চলাকালে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রয়েছে প্রথম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক তিন বিভাগে বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল প্রতিযোগিতা। আজ শনিবার চিত্রাঙ্কন ও গণিতের ধাঁধা, আগামীকাল রবিবার দেশের গান, সোমবার সাধারণ নৃত্য, মঙ্গলবার ধারাবাহিক গল্প বলা, রুবিক্স (পাজেল মেলানো) ও উপস্থিত রচনা লেখা, বুধবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক আবৃত্তি ও একক অভিনয় এবং বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একক অভিনয়।


মন্তব্য