kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


রিয়াজউদ্দিন বাজারে ২৫০ সোনার বার জব্দ

‘আপসের’ চেষ্টার পর আবু উধাও

চিহ্নিত হয়নি বিমানের প্রকৌশলী

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের একটি গুদাম থেকে ২৫০টি সোনার বার জব্দের ঘটনার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও কথিত সোনার মালিক আবু আহম্মেদকে (৪৪) এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হতে পারেনি এবং জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করা যায়নি।

তবে সর্বশেষ ২০-২৫ দিন আগে আবু আহম্মেদ ফটিকছড়ি উপজেলায় গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলেন বলে তাঁর মা পুলিশকে জানিয়েছেন। ঘটনার দিন তিনি পুলিশের গোয়েন্দাদের সঙ্গে ‘আপসের’ চেষ্টা করে ফোন করেছিলেন বলে একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

গত ২৫ জানুয়ারি রাতে রিয়াজউদ্দিন বাজারে বড় সোনার চালান ধরা পড়ে। ওই রাতে সিন্দুক থেকে উদ্ধার হয় ২৫০টি সোনার বার ও ৬০ লাখ টাকা। সোনার বারগুলোর ওজন প্রায় ২৯ কেজি।

এসব সোনার বার ও টাকার মালিক হিসেবে জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার জাফরনগর এলাকার ফয়েজ আহম্মেদের ছেলে আবু আহম্মেদের নাম জানতে পারে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

সোনা ও টাকা জব্দের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন মহানগর ডিবির উপপরিদর্শক আফতাব হোসেন। মামলাটি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবির পরিদর্শক কেশব চক্রবর্তীকে।

তদন্ত শুরুর পর তদন্তকারী কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রকৌশলী এবং আবুর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বন্ধু সোনা পাচারে জড়িত বলে প্রাথমিক তথ্য পান তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওই সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা কালের কণ্ঠ’র প্রশ্নের জবাবে তদন্তের এটুকু অগ্রগতির কথা জানিয়েছিলেন।

কিন্তু প্রায় দেড় মাস পর এসে গত রবিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার সময় এখনো আসেনি। ’

আবু আহম্মেদকে কেন গ্রেপ্তার করা যায়নি জানতে চাইলে ডিবির পরিদর্শক কেশব বলেন, ‘দেড় মাস ধরে আবুকে গ্রেপ্তারের জন্য খোঁজা হচ্ছে; কিন্তু তাঁর অবস্থান আমরা এখনো জানতে পারিনি। এ ছাড়া আবু দেশে আছেন নাকি বিদেশে পালিয়ে গেছেন, সেই তথ্য জানার জন্য ইমিগ্রেশন পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। আবু বিদেশে পালিয়েছেন, সেখান থেকে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ’

তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘বিমানের প্রকৌশলী ছাড়াও আবুর ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে যাদের তথ্য পাওয়া গেছে, তাদেরও খোঁজা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। ’

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অন্য একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, “ঘটনার দিন আবু নগর গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে আপসের চেষ্টা করে ফোন করেছিলেন। এরপর সর্বশেষ আবুর অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল জেলার রাউজান থানা এলাকায়। এরপর ২০-২৫ দিন আগে তিনি একবার ফটিকছড়ি গিয়েছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সেই বিষয়টি নিশ্চিত নই। তাই সোনা পাচারের মামলাটি একপ্রকার ‘মৃত’ অবস্থায় আছে। কারণ আবুকে গ্রেপ্তার করা না গেলে প্রকৃত রহস্য জানা কখনোই সম্ভব হবে না। ”

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, আবু আহম্মেদ পরিবার নিয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন হিলভিউ আবাসিক এলাকায় থাকেন। দরিদ্র অবস্থায় তিনি দুবাই গিয়েছিলেন। ফিরে এসে চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারে কসমেটিকস ব্যবসা শুরু করেন। জড়িয়ে পড়েন সোনা পাচারের সঙ্গে।

চিহ্নিত হয়নি বিমানের প্রকৌশলী : মামলার তদন্ত পর্যায়ে গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে বাংলাদেশ বিমানে কর্মরত দুজন কর্মী সোনা পাচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাঁদের একজন চাকরি করেন বিমানের প্রকৌশলী পদে। দুজনের বাড়িই চট্টগ্রামে। তাঁরাও আবু আহম্মেদ চক্রকে সোনা পাচারে সহযোগিতা করেন বলে জানতে পেরেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে তাঁদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। এ বিষয়ে নগর পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, প্রকৌশলীদের পরিচয় জানা ছাড়াই তাঁদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রমাণ করতে আবুকে বেশি প্রয়োজন।


মন্তব্য