kalerkantho


স্থানীয় সরকার নির্বাচন

অনেক দলেরই অংশগ্রহণ নেই

কাজী হাফিজ   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অনেক দলেরই অংশগ্রহণ নেই

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিবন্ধিত অর্ধেক রাজনৈতিক দলেরই সাড়া নেই। আর যাদের সাড়া মিলছে সেগুলোর মধ্যে প্রধান দু-তিনটি দল ছাড়া অন্যদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য উল্লেখ করার মতো নয়।   পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বাদে বাকি দলগুলো ১ শতাংশ ভোটও পায়নি।

কমিশন সূত্র জানায়, এ নির্বাচনে সাড়া মিলছে না, এমন বেশির ভাগ দলের সঙ্গে ইসির যোগাযোগও কম। যে ঠিকানা উল্লেখ করে ওই সব দল নিবন্ধিত হয়েছিল সে ঠিকানায় তাদের আর পাওয়া যায় না। টেলিফোন নম্বরও পাল্টে গেছে।

এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণেই ছোট কোনো দলের বিকাশ সম্ভব হচ্ছে না। বড় দুটি দলের লেজুড়বৃত্তি করা ছাড়া তাদের টিকে থাকাও কষ্টকর। এ ছাড়া এসব দল তৃণমূল থেকে গড়ে ওঠেনি এবং ব্যক্তি প্রভাব ও ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছায় এসব দলের কার্যক্রম চলছে। তৃণমূল থেকে এসব দল উঠে এলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এদের অংশগ্রহণ থাকত।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য, এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য নিবন্ধিত ৪০টি দলের মধ্যে ২৪টি প্রার্থী প্রত্যয়নের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ও নমুনা স্বাক্ষর জমা দিয়েছিল কমিশনে।

এর মধ্যে আটটি রাজনৈতিক দল প্রথম ধাপে কোনো প্রার্থী দেয়নি। দলগুলো হলো লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), খেলাফত মজলিস, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। এ ধাপে  প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের ৭৩১ , বিএনপির ৬১৩, জাতীয় পার্টির ১২৭,  জাসদের ২৯, বিকল্পধারা বাংলাদেশের চার, ওয়ার্কার্স পার্টির ২৩, জাতীয় পার্টির (জেপি) ১৭, বিএনএফ সাত, সিপিবির চার, তরিকত ফেডারেশনের এক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২২৭, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) তিন ও জাকের পার্টির একজন। এ ধাপে জেএসডির একজন এবং বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির একজন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় তাঁদের স্থান হয়নি।    

দ্বিতীয় ধাপে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের ৬৪২, বিএনপির ৫৬৪, জাতীয় পার্টির ১৫৬,  জাসদের ২৪, বিকল্পধারা বাংলাদেশের এক, ওয়ার্কার্স পার্টির ছয়, জাতীয় পার্টির (জেপি) পাঁচ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির দুই, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের দুই, খেলাফত মজলিসের এক, বাসদের এক, সাম্যবাদী দলের এক, সিপিবির পাঁচ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এক, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৯২, জাকের পার্টির এক, জেএসডির এক এবং বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির একজন। তরিকত ফেডারেশন ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) কোনো প্রার্থী নেই।

এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেয় ২০টি দল। এগুলো হচ্ছে এলডিপি, জাতীয় পার্টি (জেপি), সিপিবি, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী  পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, জাসদ, বাসদ, তরিকত ফেডারেশন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৮ শতাংশ ও বিএনপি ২০.৬১ শতাংশ ভোট পায়। বাকি দলগুলোর কেউই ১ শতাংশ ভোট পেতে সক্ষম হয়নি।

এদিকে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য কিছুটা বাধ্যতামূলক হলেও স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে এ রকম কোনো বিধান নেই। সংসদ নির্বাচনের আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের  ৯০-‘জ’ এর ‘ঙ’ ধারা অনুসারে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল পরপর দুবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে নির্বাচন কমিশন সে দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে। সে কারণে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৪১টি দলের মধ্যে বিএনপিসহ ২৮টি দলের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। নির্বাচন যে সরকার ব্যবস্থার অধীনে এবং যখনই হোক না কেন এ দলগুলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে নির্বাচনী আইন অনুসারে তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যেতে পারে। এ দলগুলো দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। দলগুলো হচ্ছে বিএনপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), জাকের পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট)। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৪৭টি আসনে অংশগ্রহণকারী ১২টি দলের মধ্যে আওয়ামী লীগের ১২০ জন, জাতীয় পার্টির ৬৫, জাতীয় পার্টির (জেপি) ২৮, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) ২২, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) ২১, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ১৬, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির ছয়, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের তিন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এক, গণফ্রন্টের এক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দুই ও গণতন্ত্রী পার্টির একজন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ১০৪ জন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ছাড়া বাকি কোনো দল আসন পায়নি।  


মন্তব্য