kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


নানা আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদ্যাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নানা কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপন করা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস। এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ, এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং নানা সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিশুদের সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করে। এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার, প্রথম প্রহরে কেক কাটা, সকালে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও প্রার্থনা। এ ছাড়া আনন্দ মিছিল, শিশু সমাবেশ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সকাল ৭টায় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে দলীয় প্রধান হিসেবেও বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। পরে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে যান এবং সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। সেখান থেকে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু ভবন সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

‘শিশুদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন’ : গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, শিশুদের কাছে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কর্মজীবন একটি আদর্শ। শিশু দিবস হিসেবে তাঁর জন্মদিন পালনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শিশুদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন। বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মদিন ও ২৩তম জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলার আয়োজনে গতকাল মানিক মিয়া এভিনিউয়ে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে কেক কেটে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়।

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘শিশুদের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করার মতো সংগঠন বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা। এর স্থায়ী কোনো ঠিকানা নেই। আমরা স্থায়ী ঠিকানার জন্য জায়গা দেব। ’

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যে এ জাতির সব মুক্তির-সংগ্রামের উপাদান ছিল বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দেশকে স্বাধীন করতে একদিকে আলোচনা, অন্যদিকে সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। ’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলার চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি মিয়া মানসুর, খায়রুল আনাম, আসাদুজ্জামান জামিল প্রমুখ।

কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলার আয়োজনে ১১টি বিষয়ে ৬৩ জেলায় সপ্তাহব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এক লাখ ৭৬ জন শিশু-কিশোর অংশ নেয়। এর মধ্যে ঢাকায় অংশ নেয় দুই হাজার ৮০০ শিশু-কিশোর। আয়োজনের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হচ্ছে লোক নৃত্য, অভিনয়, আবৃত্তি, সাধারণ নৃত্য, চিত্রাঙ্কন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান, নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, দেশাত্মবোধক গান ইত্যাদি।

‘বাংলা মায়ের মুক্তি এলো এমন ছেলের জন্য’ : দিবসটি উপলক্ষে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ‘ধন্য মুজিব ধন্য, বাংলা মায়ের মুক্তি এলো এমন ছেলের জন্য’ শীর্ষক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। গতকাল সকাল পৌনে ১০টায় কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন একাডেমির সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী।

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম শ্রেণি থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত তিনটি দলে তিন শতাধিক শিশু অংশ নেয়। সকাল সাড়ে ১১টায় শিশুদের মেলা, দুপুর ১২টায় একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় সমবেত নৃত্য, সাড়ে ১২টায় একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক দলের পরিবেশনায় অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

এ ছাড়া বিকেল ৫টায় একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার। দ্বিতীয় পর্বে ছিল পুতুল নাট্য, মূকাভিনয়, অটিস্টিক শিশুদের পরিবেশনা, শিশু বিদ্যালয়ের পরিবেশনা ও শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। এ সময় সমবেত নৃত্য, সমবেত সংগীত, একক সংগীত, আবৃত্তি এবং পিপলস লিটল থিয়েটারের পরিবেশনায় গানের সঙ্গে কোরিওগ্রাফি পরিবেশিত হয়। একই সময়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শুরু হয় জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে। প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।

‘বেঁচে থাকলে মাহাথিরকে ছাড়িয়ে যেতেন’ : দিবসটি উপলক্ষে গতকাল বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘বঙ্গমাতা পরিষদ’ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, জাতির জনক বেঁচে থাকলে আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক মাহাথির মোহাম্মদকে ছাড়িয়ে যেতেন। তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সব রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বঙ্গমাতার অনুপ্রেরণায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন বঙ্গবন্ধু। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে কারো দেওয়া স্লিপ দেখে বক্তব্য দেননি বঙ্গবন্ধু। তাঁর হৃদয়ে যা ছিল তিনি তাই বলেছিলেন। ’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বঙ্গবন্ধু কোনো অন্যায় আবদারের কাছে মাথানত করেননি। তাঁর জন্মদিনে তাঁর সততার শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, ২৬ মার্চ নয়, ৭ মার্চই আমাদের স্বাধীনতা দিবস হওয়া উচিত। কারণ ৭ মার্চের ভাষণেই স্বাধীনতার ঘোষণা রয়েছে। এ-সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা রয়েছে। ’

বারকাত বলেন, ‘‘৬ মার্চ রাতে বঙ্গমাতা বুঝতে পেরেছিলেন কিছু একটি ঘটতে যাচ্ছে। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের আগে বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ করে বঙ্গমাতা বলেছিলেন, ‘বাংলার মানুষ প্রতারিত হবে এমন কোনো কথা বা বক্তব্য দেওয়া যাবে না। বাংলার মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা যাবে না। তোমার মন ও হৃদয়ে যা আছে তুমি সেভাবেই বলবে। কারো কথামত নয়। ’ এ কারণে বঙ্গবন্ধুর পাশাপাশি বঙ্গমাতাকেও স্মরণ করতে হবে। ”

বঙ্গমাতা পরিষদের প্রেসিডিয়াম মেম্বার অধ্যক্ষ আসাদুল হকের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাসান জামিল সাত্তার।


মন্তব্য