kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


কুকুর বন্ধ্যাকরণ ও ভ্যাকসিনেশন বন্ধ

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীর ঢাকার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে বেওয়ারিশ কুকুরের উত্পাত বেড়ে গেছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কুকুর নিধন, বন্ধ্যাকরণ ও ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশনের বাজেট বই পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ খাতে এক টাকাও বরাদ্দ রাখা হয়নি। এ ছাড়া এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাদের নেই দক্ষ জনবল।

ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট দুজন কর্মকর্তা জানান, দুই সিটিতে ৪০ হাজারেরও বেশি বেওয়ারিশ কুকুর রয়েছে। এসব কুকুরের বেশির ভাগই বছরে দুইবার তিন থেকে পাঁচটি বাচ্চা প্রসব করে। এভাবে রাজধানীতে অস্বাভাবিক হারে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়ছে। তাই কুকুর নিধন ও বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম না থাকায় বর্তমানে রাজধানীর সর্বত্র কুকুরের বিচরণ চোখে পড়ে। আর এদের উত্পাতে কোনো কোনো এলাকায়, বিশেষ করে রাতে চলাচল করাই দায় হয়ে পড়েছে।

এদিকে কুকুর নিধন ও ভ্যাকসিনেশন প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ আছে যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাদেরই নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।   অভয়ারণ্য নামের ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে খুব শিগগির বৈঠক করে তাদের কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। কিন্তু অভয়ারণ্যকে কাজ দেওয়া নিয়ে এরই মধ্যে খোদ সিটি করপোরেশনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এ ছাড়া উচ্চ আদালতের যে আদেশের কথা বলে রাজধানীতে কুকুরের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে না তাও সঠিক নয় বলে মতামত দেন একাধিক কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসসিসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজধানীর কুকুর নিধনের ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু কুকুর বন্ধ্যাকরণ ও ভ্যাকসিনেশনে তো কোনো বাধা নেই। আমরা করপোরেশনের কোনো অনুষ্ঠানে গেলে এলাকার জনপ্রতিধি ও সাধারণ মানুষ ঘিরে ধরে। তাদের অভিযোগ কুকুরের উত্পাত নিয়ে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা আসার পর মনে হচ্ছে আমরা বেঁচে গেছি। ’

দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, করপোরেশনের বার্ষিক বাজেটে কুকুর নিধন, বন্ধ্যাকরণ ও ভ্যাকসিনেশন খাতে কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি। এমনকি এ কাজে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর প্রশিক্ষণও নেই। একজন ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ও দুজন সহকারী ভেটেরিনারি কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েই দায় সেরেছে কর্তৃপক্ষ। আবার এ তিন কর্মকর্তার কাছেও রাজধানীতে কী পরিমাণ কুকুর আছে সেই হিসাব বা তথ্য নেই।

ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান বলেন, ‘মাস ডগ ভ্যাকসিনেশনের (এমডিভি) জন্য আমাদের কোনো বাজেট নেই। নেই প্রশিক্ষিত জনবলও। আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আসা অভয়ারণ্য এনজিওকে তাদের চাহিদামতো সহায়তাও করা যাচ্ছে না। তাই এই মুহূর্তে কুকুর ভ্যাকসিনেশন ও বন্ধ্যাকরণ করা যাচ্ছে না। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লোকজন গত ৭ মার্চ থেকে কামরাঙ্গীরচরের তিনটি ওয়ার্ডে কুকুর ভ্যাকসিনেশনের কাজ করে যাচ্ছে। তারা পর্যায়ক্রমে অন্য ওয়ার্ডেও ওই কাজ করবে। ’

সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা দুই সিটি করপোরেশন অভয়ারণ্যের সঙ্গে দ্রুত সভা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করব। ’

জানা যায়, কুকুর বন্ধ্যাকরণের জন্য গাড়ি, দক্ষ জনবল, অপারেশন থিয়েটারসহ আরো কিছু আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু এর কিছুই সিটি করপোরেশনে নেই। এ ছাড়া এ কাজে সিটি করপোরেশনের জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও জটিলতা আছে। কোনো ওয়ার্ড কাউন্সিলর কুকুর বন্ধ্যাকরণে তাঁদের নিজ এলাকায় জায়গা দিতে রাজি হচ্ছেন না।

এদিকে আগেই অনিয়মের আভিযোগে অভিযুক্ত এনজিও অভয়ারণ্যকে আবারও কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা যায়। ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুর নিধন ও বন্ধ্যাকরণ প্রকল্পের প্রায় ৩০ কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে খরচ করা নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আছে অনেক অভিযোগ। আর এ অভিযোগে এনজিওর সঙ্গে  দুই সিটি করপোরেশনের কিছুসংখ্যক কর্মকর্তার নামও উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) খান মো. বিলাল বলেন, ‘আমরা বেওয়ারিশ কুকুর বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে কয়েকটি সভা করেছি। আশা করছি খুব দ্রুত কাজ শুরু করতে পারব। এ ছাড়া যে এনজিওর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আনা হচ্ছে তা আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগের ঘটনা। এখন আর ওই খাতে অর্থ দেওয়া হয় না। ’


মন্তব্য