kalerkantho


সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

একাডেমিক পদ থেকে ৬৭ শিক্ষকের পদত্যাগ

সিলেট অফিস   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরের দ্বন্দ্বের জের ধরে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত বুধবার থেকে কোনো ক্লাস বা পরীক্ষা হয়নি।

প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ ছিল।

রেজিস্ট্রারের পদত্যাগের দাবিতে গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৭ জন শিক্ষক বিভিন্ন একাডেমিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্র জমাদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন ছয়টি অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান, প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর, ছয়টি হলের প্রভোস্ট, সহকারী প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক।

গতকাল বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পদত্যাগপত্র নিয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। আজ ও আগামীকালও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। ফলে রবিবারের আগে এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত জানা যাচ্ছে না। পদত্যাগপত্র প্রাপ্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন উপাচার্যের একান্ত সচিব কৃষিবিদ মো. ইকবাল হোসেন।

এদিকে, প্রক্টরের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং রেজিস্ট্রারের পক্ষে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ও কর্মচারী পরিষদ অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগামীকালের মধ্যে রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম পদত্যাগ না করলে শিক্ষক সমিতির সদস্যরা গণপদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যদিকে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ও কর্মচারী পরিষদ প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল বাসেতকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে। তিনটি সংগঠন বুধবার পৃথকভাবে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪, ১৫ ও ১৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা ছিল। বিভিন্ন বিভাগে ২৪ জন শিক্ষক নিয়োগের কথা। ১৫ মার্চের পরীক্ষা শেষে রাত ৯টার দিকে নিজ কক্ষে আসার পথে প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল বাসেত তাঁর কয়েকজন সহকর্মী নিয়ে রেজিস্ট্রারের কাছে জানতে চান কাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে ব্যাপক বাগিবতণ্ডা হয়, এমনকি দুই পক্ষের সঙ্গে থাকা সতীর্থদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম শাহি আলম পরবর্তী (১৬ মার্চের) নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেন।

পরদিন বুধবার প্রক্টরের পক্ষে অবস্থান নেয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং রেজিস্ট্রারের পক্ষে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ও কর্মচারী পরিষদ।

জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষা শেষে একাডেমিক ভবনের নিচ তলায় আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রক্টর সাহেব আমার কাছে জানতে চান কাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি তাঁর পছন্দের প্রার্থীকে না নিলে পরিণতি শুভ হবে না বলে হুমকি দেন। তিনি আমার সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ’

 

তবে, এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার না করে প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল বাসেত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি তাঁর কাছে নিয়োগের ব্যাপারে জানতে চেয়েছি। তিনি আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। আমাকে গালাগাল করেছেন। ’

এ ঘটনায় শিক্ষক সমিতি আগামীকাল পর্যন্ত রেজিস্ট্রারকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দিয়েছে জানিয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মৃত্যুঞ্জয় কুণ্ডু বলেন, ‘বুধবার আমরা ডিন, চেয়ারম্যান, প্রক্টর সহকারী প্রক্টর, প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক পদ থেকে ৬৭ জন শিক্ষক উপাচার্যের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। রবিবারের মধ্যে রেজিস্ট্রারকে না সরালে ওই দিন সভা করে আমরা গণপদত্যাগ করব। ’

অন্যদিকে, নিজেদের দাবির প্রতি শক্ত অবস্থানে রয়েছে রেজিস্ট্রারের পক্ষে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ও কর্মচারী পরিষদ। অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ছানোয়ার হোসেন মিয়া ও কর্মচারী পরিষদের সভাপতি শাহ আলম সুরুক বলেন, বিভিন্ন সময়ে প্রক্টরের দুর্ব্যবহার, বিভিন্ন কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপে আমরা অতিষ্ঠ। মঙ্গলবার রাতে তিনি রেজিস্ট্রার মহোদয়ের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা ক্ষমার অযোগ্য। তাই তাঁকে শুধু পদত্যাগ নয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কার না করা পর্যন্ত আমরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাব।


মন্তব্য