kalerkantho


বীরাঙ্গনা ফুলমতিকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বীরাঙ্গনা ফুলমতিকে  মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য গাইবান্ধার বীরাঙ্গনা রাজকুমারী ফুলমতি রবিদাসের ৪৫ বছরের লড়াই শেষ হলো। সরকারি কর্মকর্তা, প্রভাবশালীদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে স্বাধীন দেশে মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার চেয়েছিলেন ফুলমতি (৭৩)।

অবশেষে স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্যাতিত এ বীরাঙ্গনা। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৩৩তম সভার গত সোমবার নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজকুমারী ফুলমতি রবিদাসসহ আরো ২৬ জনকে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার।

ফুলমতি এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ। শরীরজুড়ে নানা অসুখ বাসা বাঁধলেও অর্থাভাবে চিকিত্সা বন্ধ। বন্ধ স্বাভাবিক চলাফেরাও। তার পরও রাষ্ট্র তাঁকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়ায় রাজকুমারী ফুলমতি রবিদাসের চোখে-মুখে উপচে পড়া খুশির ঝিলিক।

রাজকুমারী ফুলমতি রবিদাস গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা সদরের উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত কুশিরাম রবি দাসের স্ত্রী। তাঁর পরিবারে চার ছেলে-ছেলের বউ ও নাতি-নাতনিসহ ১২ জন সদস্য রয়েছেন। কষ্টে দিন কাটে পরিবারটির।

বড় ছেলে অসুখে ভুগে ১৯৯৮ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সেই মারা যান। আর একমাত্র মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে।

তাঁর বাড়িতে গিয়ে পাওয়া গেছে তাঁর ও স্বজনদের আনন্দিত প্রতিক্রিয়া। ২০১৪ সালে কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে লোকলজ্জা, বিরূপ মন্তব্যের তোয়াক্কা না করে এই বীরাঙ্গনা জননী বলেছিলেন, কিচ্ছু চাই না, শুধু মুক্ত স্বদেশের জন্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতি চাই। এবারও বললেন সেই একই ধরনের কথা। বললেন, তাঁর এই স্বীকৃতি মুক্তিযোদ্ধাদেরই অবদান। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিও জানালেন তাঁর কৃতজ্ঞতা। অর্থাভাব অনাহারের কথা উল্লেখ করে এক ছেলেকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এক রাতে স্থানীয় এক বিহারির সঙ্গে হঠাত্ করে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা রাজকুমারী ফুলমতি রবিদাসের বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে তাঁকে ঘর থেকে টেনে বের করে বাইরে এনে সম্ভ্রমহানি ঘটানো হয়। এরপর কয়েক দফায় হানাদাররা তাঁকে লাঞ্ছিত করে।


মন্তব্য