kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণের পর খসড়া চূড়ান্ত হবে

রেজাউল করিম   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক অপসারণবিষয়ক আইনের খসড়া চূড়ান্ত করতে কিছু সময় লাগবে। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ-প্রসূত অভিমত পাওয়ার পর চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করবে আইন মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, খসড়ায় বিচারক অপসারণের প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রধান বিচারপতিকে সংশ্লিষ্ট করার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিচারক অপসারণে আইন কমিশনের সহায়তায় আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে। এটির যারা স্টেকহোল্ডার অর্থাৎ যাদের ওপর প্রয়োগ হবে, তাদের অভিভাবক প্রধান বিচারপতির কাছে খসড়াটি নিজ হাতে হস্তান্তর করেছি। প্রধান বিচারপতি কোনো পর্যবেক্ষণ দিলে আমরা সেটি নিয়ে আরো কাজ করব। তারপর মন্ত্রিপরিষদের সভায় উপস্থাপন করা হবে। পরে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। ’

সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানায়, আইনের খসড়া প্রধান বিচারপতিকে দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। বিচারক অপসারণ প্রক্রিয়ায় প্রধান বিচারপতিকে রাখা হয়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এখনি মন্তব্য করতে চাই না। খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর গণমাধ্যমের কাছে সব কিছু বলব। ’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাষ্ট্রের অন্যতম স্তম্ভ বিচার বিভাগ, এর প্রধান হলেন প্রধান বিচারপতি। ’ তিনি বলেন, বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতিকে নিয়োজিত করবেন রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে বিচারক নিয়োজিত করবেন তিনি। যেহেতু বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতিকে সংশ্লিষ্ট রাখা সংবিধানে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তাই অপসারণের ক্ষেত্রেও তাঁকে সংশ্লিষ্ট রাখা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। অন্যান্য দেশেও তা-ই রয়েছে।

ব্যারিস্টার রফিক বলেন, যদি প্রধান বিচারপতিকে অপসারণের প্রসঙ্গ আসে তাহলে সে প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রধান বিচারপতির পরবর্তী জ্যেষ্ঠ বিচারককে সংশ্লিষ্ট রাখা উচিত।

আইন কমিশনের সদস্য ড. এম শাহ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া তৈরি করে কমিশনের কাছে মতামত নেওয়ার জন্য পাঠায়। পরে কমিশন একটি নতুন খসড়া তৈরি করে। সেটি গত ডিসেম্বর মাসে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, খসড়া আইনে প্রস্তাব করা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চাইলে স্পিকারের কাছে করতে হবে। স্পিকার অভিযোগ তদন্তের জন্য সর্বোচ্চ ১০ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে একটি কমিটি করবেন। প্রয়োজন হলে পরে তিন সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন স্পিকার।

দ্বিতীয় তদন্ত কমিটিতে কোনো বর্তমান বিচারককে না রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ড. শাহ আলম বলেন, বর্তমান বিচারককে রাখা হলে সহকর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গিয়ে তিনি বিব্রতবোধ করতে পারেন বা প্রভাবিত হতে পারেন। এ কারণে কোনো বর্তমান বিচারককে না রাখতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, প্রধান বিচারপতিকে অপসারণ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট রাখা হয়নি।

তদন্ত প্রক্রিয়া : খসড়ায় বলা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর স্পিকার প্রাথমিক তদন্তের জন্য অনধিক ১০ সংসদ সদস্যকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করবেন। ওই কমিটি সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে। অভিযোগের সত্যতা না থাকলে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতেই স্পিকার বিষয়টির নিষ্পত্তি করবেন এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে অবগত করার ব্যবস্থা করবেন।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে স্পিকার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন। এ বিষয়ক আলোচনা রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দিলে স্পিকার তিন সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন। একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি অথবা আপিল বিভাগের একজন সাবেক বিচারপতি এর চেয়ারম্যান হবেন। একজন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও একজন সম্ভ্রান্ত নাগরিক কমিটির সদস্য হবেন।


মন্তব্য