kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


‘বেপরোয়া’ আওয়ামী লীগ একজন নিহত, আহত ৩১

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘বেপরোয়া’ আওয়ামী লীগ একজন নিহত, আহত ৩১

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে দলটির বিদ্রোহী এক প্রার্থীর কর্মীদের হামলায় নিহত হয়েছেন দলটিরই এক কর্মী। গত মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় আরো তিন জেলায় অন্তত ৩১ জন আহত হয়েছে।

এ নিয়ে নির্বাচনী সহিংসতায় বরিশালে পাঁচজন, কিশোরগঞ্জে একজন এবং বগুড়ায় একজন নিহত হয়েছে।

এদিকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বিএনপির ১০ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে হামলা ও হুমকির অভিযোগ করেছেন।

বরিশাল : মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভাসানচর ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া গ্রামে গতকাল হামলায় নিহত আওয়ামী লীগকর্মীর নাম সমীর চারু (৩৮)। আহত হয়েছেন সমীরের মা পারুল বেগমসহ অন্তত ১২ জন। আহতদের মধ্যে পারুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভাসানচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম চুন্নু কালের কণ্ঠকে বলেন, নিহত সমীর চারু আওয়ামী লীগের কর্মী। পাশাপাশি তিনি নৌকা প্রতীকের কর্মী। ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মুজিবুর রহমানের কর্মীরা তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছিল। গতকাল সকালে নতুনবাজার এলাকায় প্রচার চালানোর সময় সমীর চারুসহ অন্যদের ওপর হামলা চালান মুজিবুরের সমর্থক ফরিদ ও তাঁর সহযোগীরা। ফরিদ ৭ নম্বর মাদারবুনিয়া ওয়ার্ডে সদস্য পদপ্রার্থী।

তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে সমীর নিহত হয়েছেন।

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) : গতকাল দুপুরে খেজুরবাগ এলাকায় নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হায়াৎ আলী ভাণ্ডারী ও তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইকবাল হোসেনের সমর্থকরা। এ সময় তারা তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে পাল্টা হামলায় যুবলীগ আহ্বায়ক ইমারত হোসেন আহত হন। হামলা-পাল্টাহামলায় বিএনপির প্রার্থীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছে।

সাতক্ষীরা : মঙ্গলবার রাতে শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাটে  আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।   আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মীরা পাঁচটি বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।

একই রাতে আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রুহুল কুদ্দুসসহ তাঁর স্বজনদের ছয়টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলমগীর আলম লিটনের নেতৃত্বে তাঁর শতাধিক সমর্থক প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও তাঁর স্বজনদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় পাঁচজন সমর্থক আহত হয়। হামলার সময় গুলিবর্ষণ করা হয়।

শেরপুর : মঙ্গলবার রাতে নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ হাসানুজ্জামান রিয়াদের পথসভায় নৌকা সমর্থকরা হামলা চালায়। উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছয়টি নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করেছে।

পিরোজপুর : মঠবাড়িয়ার ১০ ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী ও সম্ভাব্য এজেন্টদের দেশ ত্যাগের হুমকি, অস্ত্রের মহড়া, প্রচার মাইক ভাঙচুর, কর্মীদের মারধরের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও কর্মীদের বিরুদ্ধে। গতকাল উপজেলা বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ আনে।


মন্তব্য