kalerkantho


সীতাকুণ্ডে উদীচী সভাপতির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

রহস্য উন্মোচনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ঘোড়ামারা এলাকার একটি ঘর থেকে দীপক চন্দ্র দের (৬১) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উদীচী সীতাকুণ্ড উপজেলা শাখার সভাপতি।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

দীপক চন্দ্র দে উপজেলার মধ্য মহাদেবপুর মহাজনপাড়ার সুরেন্দ্র চন্দ্রের ছেলে। কিন্তু তাঁর লাশ উদ্ধার হয় ঘোড়ামারা এলাকা থেকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড থানার ওসি ইফতেখার হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি সকাল থেকেই নগরে আছি। এই ঘটনার বিস্তারিত থানায় আছে। থানায় ফোন করলেই পাওয়া যাবে। ’

পরে যোগাযোগ করা হলে সীতাকুণ্ড থানার ওয়্যারলেস অপারেটর নূরে আলম বলেন, ‘পাক্কা মসজিদের পাশে তাহেরা বেগম নামের এক মহিলার ঘরে জিন্স প্যান্ট গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন দীপক চন্দ্র দে। লাশের সুরতহাল রিপোর্টে এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। এরপর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রকৃত সত্য জানা যাবে। ’

থানা সূত্র জানায়, দীপক চন্দ্র দে ২০০৯ সালের পর থেকেই সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানির নামে এলাকায় কাজ করতেন এবং ঘোড়ামারা এলাকার লোকজনের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আর ঘোড়ামারার দিকে যাননি। গত ১৩ মার্চ দীপক চন্দ্র দে চট্টগ্রাম নগর থেকে সীতাকুণ্ড আসার পথে ঘোড়ামারার রুবেল নামের এক লোক তাঁকে দেখে গাড়ি থেকে নামিয়ে ফেলেন। এর দুই দিন পর তাহেরা বেগমের ঘরে তাঁর ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। তবে দীপকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। গলায় ফাঁসের চিহ্ন পেয়েছে পুলিশ। এতে পুলিশের ধারণা, দীপক আত্মহত্যা করেছেন।

এদিকে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, দীপক সীতাকুণ্ড উপজেলা উদীচী শাখার সভাপতি ছাড়াও জাতীয় শিশু সংগঠন খেলাঘরের মেঘমল্লা আসরের প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি। তাঁর মৃত্যুকে রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সভাপতি মুশতারি শফি, সহসভাপতি ডা. চন্দন দাশ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা শীলা দে। তাঁরা গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে এই মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন।


মন্তব্য