kalerkantho

26th march banner

দৃশ্যমান হচ্ছে ঢাকা উড়াল সড়ক

পার্থ সারথি দাস   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা ঢাকা উড়াল সড়কের নির্মাণকাজ প্রায় ১০ শতাংশ শেষ হয়েছে। পাইলিং শেষ হয়েছে কাওলা থেকে কুড়িল পর্যন্ত ৯০টি স্থানে। আগামী মে মাস থেকে কাওলা থেকে বনানী অংশে উড়াল সড়কের অবকাঠামো নির্মাণের মূল কাজ শুরু হবে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কের পাশ থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত ৩১টি র‌্যাম্পসহ ৪৬ কিলোমিটার বিস্তৃত হবে এই উড়াল সড়ক। ৮১০টি পিলারের ওপর ১১ মিটার থেকে ২০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতায় নির্মাণ করা হচ্ছে এই উড়াল সড়কটি। রাজধানীতে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো রেলের উচ্চতা হবে ১১ মিটার। আর অনেক স্থানেই মেট্রো রেলের ওপর দিয়ে যাবে উড়াল সড়ক। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বাংলাদেশ সেতু বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিতে (পিপিপি) বাস্তবায়ন হচ্ছে উড়াল সড়ক প্রকল্প। তাতে বিনিয়োগ করছে ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কম্পানি লিমিটেড। এই কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনচাই মুচি কাবুড কালের কণ্ঠকে বলেন, দু-এক মাসের মধ্যে প্রকল্পের গতি বেড়ে যাবে।

প্রকল্প পরিচালক কাজী মোহাম্মদ ফেরদৌস কালের কণ্ঠকে বলেন, বিমান চলাচলে নিরাপত্তা রক্ষায় ঢাকা উড়াল সড়ক কুড়িল উড়াল সড়কের ওপর দিয়ে না গিয়ে এর পূর্বদিকে বেঁকে চলে যাবে বনানীর দিকে। সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুসারে, ৯০টি স্থানে পাইলিংয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে চায়না কনস্ট্রাকশন কমিউনিকেশন কম্পানি (সিসিসিসি) লিমিটেডকে। নির্মাণকাজ শুরুর জন্য এরই মধ্যে ভারত থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনা শুরু করেছে সিসিসিসি। এ ছাড়া প্রথম অংশের জন্য জমি অধিগ্রহণও শেষ হয়েছে।

মহাখালী উড়াল সড়কসহ বিভিন্ন উড়াল সড়কের ওপর দিয়ে এটি যাবে। মেয়র হানিফ উড়াল সড়কের ওপর দিয়ে উড়াল সড়কটি কুতুবখালী গিয়ে শেষ হবে।

ঢাকায় যানজট নিরসনের জন্য নেওয়া এই প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ও ব্যয় পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হবে ৩১৬ কোটি টাকা। মূল সড়কের দৈর্ঘ্য হবে ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। ৩১টি র‌্যাম্পের দৈর্ঘ্য হবে ২৭  কিলোমিটার। সব মিলিয়ে ৪৬ কিলোমিটার বিস্তৃত হবে এটি। ২০১৯ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে প্রকল্প কর্মকর্তারা আশা করছেন।

প্রকল্পে ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট কম্পানি আট হাজার ৯৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এ ছাড়া জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিষেবা সংযোগ লাইনসহ বিভিন্ন খাত মিলিয়ে প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা।

প্রকল্পের রুট হলো শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুড়িল-বনানী-মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার-কমলাপুর-সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত। তিন ধাপে বাস্তবায়ন হবে এই সড়ক প্রকল্প। প্রথম ধাপে কাওলা থেকে বনানী পর্যন্ত  ৭ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার নির্মাণ করা হবে। বনানী থেকে মগবাজার পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ হবে দ্বিতীয় ধাপে। মগবাজার থেকে কুতুবখালী অংশ নির্মাণ করা হবে শেষ ধাপে।

গত কয়েক দিন কাওলা থেকে কুড়িল অংশ ঘুরে দেখা গেছে, স্থানে স্থানে মাটি ভরাট করে বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে। রাখা হয়েছে প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সাইট অফিস, স্টক ইয়ার্ড, কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড নির্মাণে বিমানবন্দর গোলচত্বর থেকে ৮০০ মিটার দক্ষিণে কাওলা এলাকায় ১৫ একর জমি তৈরি করা হয়েছে। মালামাল রাখার জন্য কুড়িলে ৩০০ ফুট রাস্তার পাশে তৈরি করা হয়েছে ইয়ার্ড।


মন্তব্য